মঠবাড়িয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি খালাসের হাইকোর্টের রায় স্থগিত

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২১, ০০:২৪

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে খালাস দিয়েছিল হাইকোর্ট। ঐ দুই আসামি হলো মঠবাড়িয়া উপজেলার বুখাইতলা গ্রামের মৃত জাহিদ হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান স্বপন ও মোস্তফা জমাদ্দারের ছেলে সুমন জমাদ্দার। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঐ আদেশ স্থগিত করে দিয়েছে। একই সঙ্গে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আগামী ১ আগস্ট এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার জজ আদালতের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান গতকাল সোমবার এই স্থগিতাদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ এবং আসামিপক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন ও মোমতাজ উদ্দিন ফকির শুনানি করেন।

১০ বছরের শিশু ২০১৪ সালের ৫ অক্টোবর সকালে গবাদি পশুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য মাঠে যায়। দুপুরেও ঘরে না ফেরায় স্বজনেরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরদিন দুপুরে বাড়ির পাশের একটি বাগানে ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানার পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে মামলার পুলিশ এ ঘটনায় শিশুটির মামাতো ভাই মেহেদী হাসান স্বপনের সংশ্লিষ্টতা পান। এ মামলায় ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পিরোজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. গোলাম কিবরিয়া দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। গত ৩০ জুন ডেথ রেফারেন্স খারিজ ও আসামিদের আপিল গ্রহণ করে বিচারপতি কৃঞ্চা দেবনাথ ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ দুই আসামিকে খালাস দেয়। এই খালাসের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির উল্লাহ জানান, আসামিদের মধ্যে এক জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রয়েছে। সেখানে শিশুটিকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এর পরও খালাস দেওয়া হয়েছে আসামিদের। এই রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করলে চেম্বার আদালত তা স্থগিত করে দেয়।