তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে যাচ্ছে ছয় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নাম

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:১৯

ঝালকাঠি জেলার চার উপজেলায় নির্বাচনী হাওয়া গরম হয়ে উঠেছে। তবে এই নির্বাচনে বিএনপির কোনো আগ্রহ না থাকলেও আওয়ামী লীগের তত্পরতা সবচেয়ে বেশি। কোনো কোনো উপজেলায় প্রার্থী বাছাই নিয়ে মতবিরোধ এবং দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল নেতা-কর্মীর মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই ও নাম পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উত্সাহ- উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই ঝালকাঠির তিন উপজেলায় আওয়ামী লীগের একক প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু রাজাপুর উপজেলায় প্রার্থী বাছাই নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হওয়ায় ৩ জন প্রার্থীর নামের প্রস্তাব সুপারিশ করে কেন্দ্রে পাঠানো হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

ঝালকাঠি সদর উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান হোসেন খান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান খানের নাম শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এককভাবে আরিফুর রহমানের নাম প্রস্তাব করা হয় বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খান জানান, আমার নাম প্রস্তাব করা না হলেও হতাশ হইনি। এখনো আশা ছাড়িনি। আমিও প্রার্থী হিসেবে ফরম কিনবো।

নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নাচন মহল ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানের একক নাম এসেছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছ থেকে। এ ছাড়া নলছিটির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমানের নামও শোনা যাচ্ছিল। এ প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমাকে না জানিয়ে এবং আমার কোনো মতামত না নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, সিদ্দিকুর রহমান দীর্ঘদিন থেকে দলের সাথে জড়িত থাকায় দলীয় স্বার্থে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এ কারণে নলছিটির নেতা-কর্মীরা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সিদ্দিকুর রহমানকে যোগ্য বিবেচনায় তার নাম প্রস্তাব করেছে জেলা কমিটির কাছে।

কাঠালিয়া উপজেলা থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান সহ একাধিক দলীয় নেতার নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে এক জনের নাম। তিনি হলেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যন উপজেলা আওয়ামী লীগ আহ্বায়ক কিবরিয়া সিকদার। এছাড়া যাদের নাম শোনা যাচ্ছিল তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা তরুণ সিকদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে মো. এমাদুল হক মনির।

কাঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও বর্তমান চেয়ারম্যান কিবরিয়া সিকদার বলেন, উপজেলা কমিটির বর্ধিত সভায় সকলে একমাত্র আমার নামটিই প্রস্তাব করেছে। অন্য কারো নাম ওখানে আসেনি। কাঠালিয়া উপজেলার ওয়ার্ড কমিটির ১০৮ জন এবং ৬ ইউনিয়নের ১২ নেতাকর্মী আমার নাম জেলা কমিটির কাছে প্রস্তাব করে পাঠিয়েছে।

রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিলন মাহমুদ বাচ্চুর নাম শোনা গেলেও আরো দু’জন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে তত্পর রয়েছেন। এই দু’জন হলেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও দলের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান এবং উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি ও বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু। প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে উপজেলার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত ২ জানুয়ারির বর্ধিত সভায় কাঠালিয়া-রাজাপুর আসনের এমপি ও রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুল হক হারুন নিজে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে একক প্রার্থীর নাম প্রস্তাব আকারে পাঠাতে চাইলেও দলীয় অপর একটি গ্রুপের ঐ সভা বর্জন করায় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এমপি বজলুল হক হারুন জানান, তৃণমূলে মতামতের ভিত্তিতে এখান থেকে তিনজনের নাম জেলা কমিটির কাছে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে। তাদের মধ্যে কেন্দ্র থেকে যার নাম বিবেচনা করবে তিনি দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লা পনির বলেন, আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় একক প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা হবে। রাজাপুর ও কাঠালিয়া প্রার্থীর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। অতি দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রে প্রস্তাব পাঠানো হবে।