পার্বত্য অঞ্চলের আম যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ২১:৩৬

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

 

চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে গত এক দশক ধরে বিদেশি উন্নত জাতের আমের চাষ হয়ে আসছে। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলগুলোর মধ্যে বান্দরবান, লামা, খাগড়াছড়ি, রামগড়, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি, চন্দ্রঘোনা এলাকায় হাজার হাজার আমের বাগান গড়ে উঠেছে। এসব এলাকায় উত্পাদিত আম দেশের আমের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করছে। পার্বত্য অঞ্চলে উত্পাদিত আমের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির আম রয়েছে। এসব আমের মধ্যে রয়েছে আম্রপালি, মল্লিকা, থাই কাঁঁচামিঠা, রাঙ্গুয়াই, থাই ডাকমাই, ফনিয়া, থাই    ব্যানানা, ভিয়েতনামি, মিশরি আম রয়েছে। তবে এসব আমের মধ্যে আম্রপালি জাতের আম বেশি উত্পন্ন হচ্ছে। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে আমের মৌসুমে আমের ব্যাপক ফলন হয়ে থাকে।

এখানে উত্পাদিত আম চট্টগ্রামসহ রাজধানী ঢাকায় পর্যন্ত যায়। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে উত্পাদিত আমগুলো সুষ্ঠুভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হয় না। দুর্গম পার্বত্য এলাকা থেকে আম পরিবহনে বিরাট সমস্যা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আম বাজারজাত করতে না পারায় অনেক আম পচে নষ্ট হয়ে যায়। এখানকার অধিকাংশ আমচাষি খুবই গরিব। তারা অনেক কষ্ট করে এই আম উত্পাদন করে থাকে। উত্পাদিত আম ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে না পারায় গরিব চাষিরা লোকসানের মধ্যে পড়ে যায়। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে লামার আমচাষি কামাল উদ্দীন বলেন—আমাদের পার্বত্য অঞ্চলে উন্নত জাতের আমের ফলন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই বিশাল পরিমাণ আম আমরা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে স্বল্প মূল্যে পৌঁছাতে পারছি না।

বিশেষ করে পরিবহন সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে আম বাজারজাত করা যাচ্ছে না। তাছাড়া, পাইকারি আম ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে আমাদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে উত্পাদিত আমের ফলন যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য পার্বত্য অঞ্চলে আম সংরক্ষণাগার স্থাপনের দায়িত্ব দীর্ঘদিনের হলেও এখনো পর্যন্ত এখানে কোনো আমের সংরক্ষণাগার স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। আমাদের দেশে প্রতি বছর আমের মৌসুমে যে পরিমাণে আম পচে নষ্ট হয় সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে আমচাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হতেন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমের প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা রয়েছে। সেসব দেশে আম দিয়ে জুস, জ্যাম, জেলি, আচার, ম্যাঙ্গুবারসহ বিভিন্ন ধরনের মজাদার খাবার উত্পাদন করে থাকে। আমাদের দেশে যদি এ ধরনের আমের প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ব্যাপক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করা যায় তবে আমাদের দেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ আম পচে নষ্ট হয়ে যায় তা আর হতো না। আমাদের দেশে উত্পাদিত উন্নত জাতের আম বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা নিলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ব্যবস্থা করা যেত।