নারায়ণগঞ্জে দুই বোনকে গণধর্ষণের দায়ে ৫ জনের এবং গাজীপুরে শিশু ধর্ষণের দায়ে একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খবর আমাদের স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধির।
নারায়ণগঞ্জ: ২০১০ সালের মে মাসে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে চাচার বাড়িতে সপরিবারে বেড়াতে এসে গণধর্ষণের শিকার হন দুই বোন। এই মামলার রায় দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত। রায়ে ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ে সাজাপ্রাপ্তরা হলো, সোনারগাঁও উপজেলার মঙ্গলেরগাঁ এলাকার মৃত হযরত আলীর ছেলে শাহ আলম, একই এলাকার আব্দুল খালেকের তিন ছেলে খোকন, এমদাদ, ইকবাল ও হাবিবুল্লার ছেলে জিয়া। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত শাহ আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যরা পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া এ মামলার আরেক আসামি মঙ্গলেরগাঁয়ের হাকিম মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম হোমা খালাস পেয়েছে। নারায়ণগঞ্জ আদালতের পিপি রকিব উদ্দিন এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লালমনিরহাট থেকে দুই বোন সপরিবারে সোনারগাঁওয়ে চাচার বাড়িতে বেড়াতে এসে ২০১০ সালের ২৮ মে গণধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে সোনারগাঁও থানায় ধর্ষিতাদের মধ্যে একজন মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে রায় ঘোষণা করেছেন।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম,এল,বি মেজবাহ উদ্দিন এ রায় প্রদান করেন। শিশুটি স্থানীয় একটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। দণ্ডিত বিল্লাল ভূইয়া শ্রীপুর উপজেলার চিনাশুকানিয়া গ্রামের রহম উদ্দিন ভূইয়ার ছেলে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় পুলিশ মামলার অন্য আসামি রুবেল এবং হেলাল খানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। আদালতের বিচারক মঙ্গলবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ রায় দেন। এ সময় মামলার আসামি বিল্লাল ভূইয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুর আদালত পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, গত ২০১৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে ওই শিশুটি অভিযুক্ত বিল্লাল ভূইয়ার বাড়িতে খেলতে যায়। এ সময় বিল্লাল মেয়েটিকে তার ঘরের মেঝে ঝাড়ু দেওয়ার জন্য ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ভিকটিম ঘটনাটি তার মাকে জানালে তিনি বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত করে বিল্লাল ভূইয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি ফজলুল কাদের এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন।
