চীন-মার্কিন বাণিজ্য বিরোধে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিশ্ব অর্থনীতি। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) এক প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে, নতুন করে যদি শুল্ক আরোপ করা হয় সেক্ষেত্রে এর প্রভাব হবে আরো ব্যাপক। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বাণিজ্য পরিসংখ্যান ও গতিপ্রকৃতি শীর্ষক এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১ মার্চের মধ্যে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আলোচনার মাধ্যমে কোনো সুষ্ঠু সমাধানে যেতে না পারে, তাহলে চীনা পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ভালো হবে না। এর ফলে বাণিজ্যের ‘ভ্যালু চেইন’ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বাণিজ্য বিরোধের ফলে পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই অঞ্চলের রপ্তানি কমে যেতে পারে ১৬০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ। তাছাড়া উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাণিজ্য বিরোধের প্রভাবে মার্কিন ও চীনা কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চীনের ২৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানিতে শুল্ক বসিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রপ্তানি করার জন্য ৮২ শতাংশই অন্য দেশ থেকে কাঁচামাল বাবদ সংগ্রহ করে চীন। একইভাবে চীনে যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানিতে শুল্ক আরোপ হয়েছে। যার ৮৫ শতাংশই অন্য দেশ আমদানি করা হয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অন্য দেশগুলো।
প্রতিবেদনের বিষয়ে আঙ্কটাডের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের প্রধান প্যামেলা কোক হ্যামিলটন উল্লেখ করেছেন, এর প্রভাব হবে ব্যাপক। পূর্ব এশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মুদ্রা মানের অবমূল্যায়ন হবে। ফলে শুরু হবে মুদ্রা যুদ্ধ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু দেশ এই বাণিজ্য বিরোধে লাভবান হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো রপ্তানির সরবরাহ ব্যবস্থায় লাভবান হবে। তাদের রপ্তানির পরিমাণ ৯০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। জাপান, কানাডা ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোর রপ্তানি বাড়বে ২০ বিলিয়ন ডলার। আফ্রিকা খুব একটা রপ্তানি বৃদ্ধি করতে না পারলেও এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ভারত, ফিলিপাইন এবং ভিয়েতনামের রপ্তানি বৃদ্ধি পেতে পারে।
চীন-মার্কিন বাণিজ্য বিরোধের বাইরে বর্তমান বিশ্বের শুল্ক কাঠামোর একটি বিশ্লেষণ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, উন্নয়নশীল বিশ্বের শুল্ক কাঠামো এখনও অনেক বেশি, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে। তাছাড়া কিছু খাতে এখনও উচ্চ শুল্ক রয়েছে। ফলে কম আয়ের দেশগুলো যারা কৃষি পণ্য, পোশাক, টেক্সটাইল এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে তারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
