শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে দেশের সব শিল্পকারখানা বন্ধ থাকলেও নারায়ণগঞ্জে একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার টেক্সটাইল ও ডাইং বিভাগ খোলা রেখেছে মালিকপক্ষ। এমন অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লার শাসনগাঁও এলাকায় বিসিক শিল্পনগরীর ফকির অ্যাপারেলসের বিরুদ্ধে। ঐ কারখানায় দুই শিফটে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কর্মীকে জোর করে কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা। তারা বলেছেন, চাকরি হারানোর ভয়ে সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে জীবন বাজি রেখে কাজে যোগ দিতে হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের এ অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছে মালিকপক্ষ ও বিকেএমইএ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিকরা জানায়, বিসিকের ফকির অ্যাপারেলস শুধু ঈদের দিন বন্ধ রাখা হয়েছে। এর পরের দিন থেকে টেক্সটাইল ও ডাইং বিভাগ চালু রাখা হয়। এ বিষয়ে কয়েক জন শ্রমিক প্রতিবাদ জানালে তাত্ক্ষণিক তাদের পাওনা দিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়। এতে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না। ঐ দুটি বিভাগে কোনো স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না। শ্রমিকদের দুপুরে ও রাতে কারখানার ভিতরেই খাবার দেওয়া হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এক শিফট এবং সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত আরেক শিফটে কাজ চলে। কাজ শেষে একজন করে ধীরে ধীরে সব শ্রমিককে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফকির অ্যাপারেলসের টেক্সটাইল ইউনিটের এইচআর অ্যাডমিন মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের কারখানা বন্ধ। কেউ খোলা রাখার তথ্য দিলে সে মিথ্যা বলেছে।’
মালিকপক্ষের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি এম এ শাহীন বলেন, সরকারের জারি করা বিধিনিষেধে সব শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও প্রথম দিনেই বিধিনিষেধ অমান্য করেছে ফকির অ্যাপারেলসের মালিকপক্ষ। তারা সরকারি সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টেক্সটাইল ইউনিট খোলা রেখেছে। তিনি আরো বলেন, শ্রমিকরা আমাকে জানিয়েছে, তাদের চাকরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে কাজে যোগদান করতে বাধ্য করেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা ভঙ্গকারী মালিকের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে শাস্তি প্রদানসহ কারখানাটি বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
