শাটলার এনায়েত উল্লাহ খান ও এলিনা সুলতানা

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ২১:২৪

২ ০১০ সালে জাতীয় ব্যাডমিন্টনে দুই জনই দেশসেরা শাটলার হওয়ার গৌরব ছিনিয়ে নিয়েছেন। কোর্টে খেলতে খেলতে পরিচয়, পরিনয়; এরপর ঘরনি। গাঁটছড়া বেঁধেছেন এক দশকেরও বেশি সময়। এখন দুই সন্তানের বাবা-মা তারা। ব্যাডমিন্টনকে ভালোবাসেন বলে এনায়েত থেকে ‘এনা’, আর এলিনার ‘লিনা’ নিয়ে গড়েছেন এনালিনা ব্যাডমিন্টন ক্লাব। কিন্তু সংসার জীবনে কেমন এনালিনা, প্রশ্নটা যেতেই এলিনা জানান, ‘এনায়েতকে আমি পেয়েছি বন্ধু, কোচ এবং একজন আদর্শ স্বামীরূপে। আমার চেষ্টার সঙ্গে এনায়েতের সার্বিক সহযোগিতা থাকায় আমরা খেলার মাঠে যেমন সফলতা পেয়েছি, সংসার জীবনেও আদর্শ জুটি হতে পেরেছি। আমরা একজন আরেক জনকে খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি।’ আসলে সংসার সুখের রাখতে হলে, শুধু আমার ক্ষেত্রে নয়, প্রতিটি স্বামীরই বুঝতে হবে, তার কী করা উচিত, কী করা অনুচিত। সেটা জেনেবুঝেই চলার চেষ্টা করি। যতটা সম্ভব পরিবারকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করি।

রাজধানীর বনশ্রীতে চার জনের সংসার শাটলার দম্পতির। দুজনই নানা কাজে জড়িত বলে সংসারে সেভাবে অসচ্ছলতা নেই। বরং নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে যতটুকু অবশিষ্ট থাকে, তা এই মহাদুর্যোগের সময় আশেপাশে অসচ্ছল মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেন তারা। মা-বাবার দেখাদেখি মেয়ে আরশিও বসে নেই, মাটির ব্যাংক ভেঙে সে টাকা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে মহাদুর্যোগে। ছোট্ট মেয়ের এমন আচরণে খুবই খুশি এনায়েত-এলিনা। ভাবিনি, এমন কিছু হবে। প্রতিটি বাবা-মায়ের উচিত তার সন্তানকে ছোট থেকে ইতিবাচক বিষয়ের প্রতি উত্সাহিত করা।’ ২০১৬ সালে খেলা ছাড়ার পর ব্যাডমিন্টনেই আছেন এনায়েত; পুলিশ ব্যাডমিন্টন ক্লাবের প্রধান কোচ। আর এলিনা চাকরি করেন রাজধানীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। চাকরি-সংসার-ছোট ছোট সন্তান সামলানো, এরপর খেলা চালিয়ে যাওয়া—খুব কঠিন কাজ হলেও সংসার জীবনে দুজনের চমত্কার বোঝাপড়ায় নাকি সব কিছু স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে নিতে পারছেন তারা।