মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর
করোনা, লকডাউন বদলে দিয়েছে অনেক কিছু। কমেছে মানুষের আয়, অনেকে বদলে ফেলেছেন পেশা। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পরিবর্তন এসেছে শিক্ষার্থীদের জীবনেও। এরই মধ্যে কেউ কেউ অখণ্ড অবসরে হয়ে গেছেন উদ্যোক্তা, কেউ বা পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। এমনি একজন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. জহুরুল হক জীবন।
লকডাউনের এই সময়টাকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন পেঁপে ও কমলার বাগান করে। বাগানের ৩০০ চারা বাবদ মাত্র ৬ হাজার টাকা পুঁজি নিয়েই শখের বসে শুরু করেন বাগান করা। মাত্র ৩৪ শতক জমিতে একই সঙ্গে পেঁপে ও কমলার চারা লাগিয়ে এখন তিনি বড় লাভের আশা করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে বেশ। বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় শখের বাগান এখন আর্থিক সফলতার উপলক্ষ্য।
বাগানের সার্বিক বিষয়ে জহুরুল হক জীবন বলেন, লকডাউনের সময়কে ভালো কাজে লাগাতেই শখের বশে বাগান করেছিলাম। বড় ভাইয়ের সহযোগিতা ছিল বলে খুব বেশি পরিশ্রমও করতে হয়নি। স্থানীয় বাজারে পেঁপে ও কমলার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে, তাই লকডাউন খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি আলহামদুলিল্লাহ।
নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ছোট ছোট প্রজেক্ট থেকেই এক দিন বড় ব্যবসায়ী হওয়া সম্ভব। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি ফলের বাগান করলে এক দিকে মন প্রফুল্ল থাকে, অন্যদিকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে যা পরবর্তী সময়ে সফল উদ্যোক্তা হবে। আমিও এক দিন বড় ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখি।
ছোট ছোট শখও একসময় বড় সফলতা এনে দিতে পারে তার প্রমাণ জহুরুলের মতো শিক্ষার্থীরা। তার মতো হাজারও তরুণ এগিয়ে আসুক উদ্যোক্তা হিসেবে, নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে অবদান রাখুক দেশ ও জাতির অগ্রগতিতে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
০
