মির্জাপুরে সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গ্রামে গ্রামে চলছে ফুটবল ম্যাচ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ২১:৫২

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় করোনার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গ্রামে গ্রামে চলছে ফুটবল ম্যাচ এবং বিনোদন স্পটেও উপচে পড়া ভিড়। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য বিভাগ করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম জানিয়েছেন, লকডাউন কার্যকরসহ এলাকার লোকজনকে স্বাস্থ্যবিধি পালনের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

রবিবার মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫০০ জন। সুস্থ্য হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন। আইসোলেশনে আছেন ২০০ জন। সরকারি হিসেবে মারা গেছে, ১৯ জন। জ্বর, ঠান্ডা, মাথা ব্যথা, বমিসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মারা গেছে অন্তত ১০০ জন। রোগীরা বাড়িতে আক্রান্ত হলেও অধিকাংশ লোকজন হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার জন্য আসছে না।

পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলর এবং কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  করোনা ও  উপসর্গ নিয়ে ঈদের আগে ও পরের চার দিনের ব্যবধানে ২৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। করোনার উপসর্গ নিয়ে কুমুদিনী হাসপাতালে মারা গেছেন আট জন। তরফপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা ডোহাতলীর বাসিন্দা কবি আসাদুজ্জামান বাবুল জানান, তার ইউনিয়নে প্রতি দিনই লোকজন আক্রান্ত হচ্ছেন। ভয়ে অনেকেই পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে আসছে না। ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি  মো. আব্দুর রউফ মিয়া জানান, করোনার উপসর্গ তার ইউনিয়নে সাত-আট জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন দোকানপাট ও হাটবাজারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় জনসমাগম হচ্ছে বেশি। ফলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনার রোগীর সংখ্যা।

লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেন, তার ইউনিয়নে করোনার বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে পাঁচ-ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের রোগীর সংখ্যা। এ নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ফুটবল ম্যাচ এবং বিনোদন স্পটে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে জনসমাগম। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মির্জাপুরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনার রোগী। যারা মারা গেছে তারা বেশির ভাগ করোনার উপসর্গ নিয়ে নিজ বাড়িতে মারা গেছে।