২০১৯ সালের পহেলা জুন ‘মানুষের জন্য কিছু করতে না পারলে মানুষ হলাম কেন?’— এ স্লোগান নিয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে (বিশেষ করে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর) দাঁড়ানোর লক্ষ্যে দূরবীন ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু। আর যার হাত ধরে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু তিনি চট্রগ্রামের তরুণ মুহাম্মদ আফজাল সুলতান সাফি। দীর্ঘ পাঁচ বছর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত থাকার পর নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন দূরবীন ফাউন্ডেশন। শুরুতে ৮-১০ জন সদস্য নিয়ে সংগঠনের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে তাদের চট্টগ্রাম ও ঢাকা শাখা মিলে মোট সদস্য সংখ্যা তিন শতাধিক। তারা মূলত পিছিয়ে পড়া ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করে। ‘শেয়ারে হোক সুন্দর সম্পর্ক’ নামক প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, শিশুদের স্কুলমুখী করা, নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও তাদের মাসিক সুরক্ষা নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি। তাদের প্রতিষ্ঠিত ‘ত্রিপুরা পাঠশালার’ মাধ্যমে বর্তমানে ৩৪ জন শিশুকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২/৩ মাস পর পর মেডিকেল ক্যাম্পসহ ত্রিপুরার সকল নারীদের মাসিক সেবা সম্পর্কে অবগত করতে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
মহামারি করোনা ভাইরাসের শুরু থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ (উপহার) সামগ্রী বিতরণ, মসজিদে গিয়ে জীবাণুনাশক স্প্রে, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে মানুষকে সচেতন করে আসছে।
শুরুর দিকে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করা খুব একটা সহজ ছিল না। সামাজিক এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মুহাম্মদ আফজাল সুলতান সাফি এ বছর ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন।
