ভারতে পিছিয়ে যাচ্ছে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বাস্তবায়ন

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ০০:৩৯

আইন তৈরি হয়েছে দেড় বছর আগেই। কিন্তু সে সংক্রান্ত নিয়মনীতি এখনো ঠিক হয়নি। এ জন্য আরো ছয় মাস সময় প্রয়োজন। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ভারতের পার্লামেন্টে এ তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বলা হয়েছে, নিয়মনীতি ঠিক হলে তবেই দেশ জুড়ে সিএএ চালু হবে। অর্থাত্ যে আইন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে গত দুই বছর ধরে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ চলে আসছে, সেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বাস্তবায়ন পিছিয়ে গেল।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, সিএএর কাজ কত দূর এগিয়েছে, কবে এর নিয়মনীতি প্রকাশ করা হবে—গতকাল সংসদে তা জানতে চান কংগ্রেস এমপি গৌরব গগৈ। জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সিএএর নিয়মনীতি ঠিক করতে আরো ছয় মাস সময় লাগবে। এ জন্য সংসদে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

২০১৯ সালে ১২ ডিসেম্বর সিএএর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তা আইনে পরিণত হয়। এখনো নিয়মনীতি ঠিক না হওয়ার কোনো ব্যাখ্যা যদিও দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, এ আইনের নিয়মনীতি ঠিক করার জন্য লোকসভা এবং রাজ্যসভার কমিটির কাছে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে যাওয়া অমুসলিম সংখ্যালঘু নাগরিকদের নাগরিকত্ব দিতে সিএএ আইন করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। তাতে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পারসি এবং খ্রিষ্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তার জন্য নিজের এবং বাবা-মায়ের জন্মের প্রমাণপত্র দিতে হবে। কোনো কারণে তা না দিতে পারলে ভারতে ছয় বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন তারা।

এ আইনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ হয়েছে ভারতের বিভিন্ন অংশে। বিরোধী নেতারাও এ আইনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) এবং সিএএর ব্যবহার করে সংখ্যালঘু মুসলিমদের টার্গেট করতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার।