ফরাশি তত্ত্ব

পল দা মান ও সাহিত্যের অগস্ত্যযাত্রা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:২৯

সালাউদ্দীন আইয়ুব

বাংলা একাডেমি

প্রচ্ছদ: অশোক কর্মকার। মূল্য : ৩০০ টাকা

 

১৯৭০ সালের পর থেকে বিদেশে সাহিত্যসংক্রান্ত অতীতের সকল প্রকার ধারণা এবং সাহিত্য-সংশ্লিষ্ট পূর্বেকার যাবতীয় বিশ্বাস বর্জিত হয়। তার সূত্রে পরিত্যক্ত হয় সাহিত্য—ম্যাগাজিন বা সাময়িকীতে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য বিভাগে। ‘সাহিত্য’ নাম-যুক্ত বিদেশি পণ্ডিতের বইপত্র, প্রবন্ধ থেকে উঠে যায় সাহিত্যের আলোচনা, তার জায়গায় বসে উত্কট তত্ত্বকথা—বাক্য ও অর্থের অনিত্য সম্বন্ধ বিষয়ে রকমারি সন্দর্ভ, কিংবা শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্মের দোষ, ত্রুটি, ব্যর্থতা নিরূপণের পদ্ধতি। এই বিপ্লবের নায়ক প্যারিসের জাক দেরিদা নন, যুক্তরাষ্ট্রের পল দা মান; ফরাশি ডিকনস্ট্রাকশন নয়, ডক্টর পল দা মানের হাতে পুনর্বিন্যস্ত মার্কিন ডিকনস্ট্রাকশন। সেই পুনর্বিন্যস্ত ডিকনস্ট্রাকশনের বিশ্বজয়ের সূত্র ব্যাখ্যা করা হয়েছে এ বইয়ে, সে সূত্র ছাড়া গত তিরিশ-চল্লিশ বছরের পাশ্চাত্য চিন্তার বিপ্লব বোঝা যাবে না। পল দা মান অপরিচিত হলেও, বাংলাদেশ দেরিদা, হাইডেগার, ডিকনস্ট্রাকশন ইত্যাদি নাম বা বিষয় অপরিচিত নয়। তবে সে সমস্ত নাম বা বিষয়ে কোনো পরিচিত কথার পুনরাবৃত্তি এতে নেই, যেমন হাইডেগার বিষয়ে দুটি অধ্যায়ের নাম : টোডনাবার্গে শ্রীকৃষ্ণ, ‘বিইং’ ও হেনা-ব্রক্ষ্ম (৪র্থ); বিইং অ্যান্ড টাইম—জার্মান বাউলের দিনপঞ্জি (৫ম)। নব্যতম বিদেশি চিন্তার অনালোচিত সূত্রের ওপর সরস গদ্যে এ ধরনের দেশি বই আগে লিখিত হয়নি। শিল্প-সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, নৃবিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব ইত্যাদি বিষয়ে আগ্রহী যে কোনো পাঠকের জন্য এ বই। বিদেশি চিন্তার বিচার এর মূল লক্ষ্য নয়, লেখকের আসল উদ্দেশ্য তরুণের মনে সাহিত্য নামক অমৃতকুম্ভে অনুরাগ সৃষ্টি এবং প্রকৃত সাহিত্যালোচনার যুগানুগ পুনরুজ্জীবন।