ঢাকা থিয়েটারের একনিষ্ঠ নাট্যশিল্পী সামিউন জাহান দোলা। অভিনয় তার সমস্ত ধ্যানজ্ঞান। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে। মঞ্চে তার আরাধ্য ব্যক্তিত্ব মঞ্চকুসুম শিমুল ইউসুফ। সামিউন জাহান দোলার সঙ্গে কথা বলে তার গল্প জানাচ্ছেন
মাহবুব আলম
ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে কাজ করছেন ১৬ বছর। ওখানেই তিনি সান্নিধ্য পেয়েছেন তার বর্ণনাত্মক অভিনয়ের পথপ্রদর্শক শিমুল ইউসুফের। তবুও তিনি বাইরে রেপোর্টারিতে কাজ করে যাচ্ছেন নিজের তৃষ্ণা থেকে। ঢাকা থিয়েটার থেকে বের হয়ে আসেন একদম নিজের মতো করে কাজ করার জন্য। নভেরা আহমেদের প্রতি তার যে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছিল তা হয়তো ঢাকা থিয়েটার অনুভব নাও করতে পারত। আর তার ‘ধ্রুপদী অ্যাকটিং স্পেস’-কেও প্রতিষ্ঠিত করার তাগিদ থেকেই আলাদা কাজ করা। একজন অভিনয়শিল্পীর সার্বিক প্রস্তুতি কেমন হওয়া দরকার জানতে চাইলে দোলা বলেন, ‘অভিনেতার প্রস্তুতি তো আর এক-দুই বছরে হয় না তা একটি দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া যা কিনা জীবনযাপনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে একেবারে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত। একজন অভিনেতা নিজেকে প্রস্তুত করে প্রতি মুহূর্তে এবং দিনের পর দিন বছরের পর বছর। জীবনের অভিজ্ঞতা আর অনুশীলন একজন অভিনেতাকে পরিপক্ক করে তোলে। অভিনেতার শারীরিক, মানসিক, বাচিক ও সাত্ত্বিক এই চারভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করতে হয় তিলেতিলে।’ পুত্র নাটকে অভিনয় প্রস্তুতি প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, ‘পুত্র নাটকে আবছা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আমার প্রস্তুতির জন্য খুব সময় ছিল না তবু আমি আমার চরিত্রের সঙ্গে সততার সঙ্গে কাজ করেছি। আপনারা জানেন এই নাটকের নির্দেশক মঞ্চকুসুম শিমুল ইউসুফ যে কিনা নিজেই অভিনেত্রী তাই আমাদের জন্য চরিত্রায়ণ করা আরও কঠিন ছিল। প্রত্যেকটি পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। আর এই নাটকে আমি ও এশা ইউসুফ দুইজনই আবছা চরিত্রে অভিনয় করেছি এবং একই সঙ্গে একই আবেগ ব্যক্ত করছি অনেকটা ছায়ার মতো। কখনো একজন আরেকজনের আবেগ ও ঘটনার প্রতিক্রিয়া দিচ্ছি আবার দুজনে মিলে একই ঘটনার বিবরণ দিচ্ছি। এইক্ষেত্রে আবছা চরিত্রের সফলতা ও ব্যর্থতা আমাদের দুজনের। মঞ্চে এভাবে দুজন একই চরিত্রের উপস্থাপন আমার মনেহয় সাধারণ দর্শকের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। তবে পেশাগত কারণে সমুদ্রের কাছাকাছি থাকার কারনে চরিত্রায়ণের ক্ষেত্রে আমার সুবিধা হয়েছে। যেহেতু আবছার যমুনার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছিলো আর আমার কাছে সমুদ্র তখন যমুনা হয়ে আছড়ে পড়েছে। এ এক দারুণ খেলা একজন অভিনেতার কাছে। এর ব্যাখ্যা হয়তো কারও কাছে অদ্ভুত লাগতে পারে।’ আপনি একাধারে নির্দেশক, অভিনেতা, কোরিওগ্রাফার ও ডিজাইনার। কোনটি আপনার আরাধ্য ও কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি মৃদু হাসলেন। এবার বললেন, ‘অভিনেতা হিসেবেই নিজেকে দেখতে পছন্দ করি। সেই ছোটবেলা থেকে নাচতাম। ভরত নাট্যম ছিল আমার সাধনার জায়গা, কিন্তু তা ধরে রাখতে পারিনি। অবশ্য কোরিওগ্রাফিতে তা সাহায্য করেছে অনেক। আর পেশাগত কারণে অনেকদিন ধরে পোশাক পরিকল্পনা করেছি বিজ্ঞাপন আর চলচ্চিত্রে। সেটাও ভালোলাগার জায়গা। তবে নিজেকে অভিনেতা হিসেবেই দেখতে চাই।’
