‘মানব আর ঈশ্বরের প্রেম বাউল গানের মূল বিষয়’

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪৪

আমরা বাঙালি জাতি। হাজার বছরের সংস্কৃতির ভেতরেই আমাদের বেড়ে ওঠা। যুগ যুগ ধরে এক অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ আমরা। আর এ সম্প্রীতির বন্ধনের বাহন হচ্ছে শেকড়ের বাউল গান। বাউল কারি বারেক বৈদেশী একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার শিল্পী ও সংগঠক। তিনি শেরপুর জেলা বাউল কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বালাদেশ লোক সঙ্গীত পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি। তিনি অতিসাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত, স্বল্পভাষী, বিনয়ী, রুচিশীল দূরদর্শী একজন মানুষ। বাউল কারি বারেক বৈদেশীর জম্ম ১৯৭৭ সালের ১ জুন শেরপুর জেলা সদর থানার দিঘাপড়া গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীত বা সুর শেখার ইচ্ছে থেকে গানের সাথে যুক্ত আছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল গান, সৃষ্টির তত্ত্ব, ভাব বিচ্ছেদ, দেশ ও মানবপ্রেমের গান, পালাগান পরিবেশন করে সঙ্গীতপিপাসু মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। এরইমধ্যে পালাগান, একক গান, মিলিয়ে প্রায় ৩০০ সিডি অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে। এছাড়া বিটিভিসহ কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বৈঠকি গান, বাউল গান, পালা গান পরিবেশন করেছেন।

বাউল বারেক বলেন, ‘প্রকৃতি থেকেই গানের উত্পত্তি। বিস্তীর্ণ চরাচর, ধূ ধূ মাঠ, ফসলের ক্ষেত, রাঙা ধূলোয় মোড়ানো মেঠোপথের পরতে পরতে মিশে আছে গানের সুর। মিশে আছে এই বাংলার মানুষের মনে। হেমন্তের কুয়াশার মাঝে বাউল গানের আসরে মানুষ যেন নিজের শেকড়ের টানে ছুটে আসে। গান হচ্ছে মানুষের আত্মার খোরাক, যে গান আমাদের অস্তিত্বে মিশে আছে। গান মানুষের মনকে প্রফুল্ল করে। আমরা কারণে অকারণে গুনগুনিয়ে গান গাই। মনের অজান্তেই গান চলে আসে। সুর বেসুর সেটা কোনো বিষয় নয়, মনে ভালো লাগে তাই গান আসে। যারা মাঠে কাজ করে তারা কাজ করতে করতেই মনের সুখে গান ধরে। এছাড়া মানব আর ঈশ্বরের প্রেম বাউল গানের মূল বিষয়। না পাওয়ার বেদনা করুণ সুর উপস্থাপন করা হয় এই গানের মাধ্যমে।’