সত্যেন বসু

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১৯:৪০

মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)

ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট

আজ অফিস থেকে ফিরে নীলকান্তবাবু খুব ব্যাথাতুর হয়ে পড়লেন। বাংলাদেশে প্রথম একজন ডাক্তারের মৃত্যু হলো করোনায়। ডাক্তার মঈনউদ্দিন সিলেটে ওসমানি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হলে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ছয়দিন চিকিত্সা নেবার পর আজ সকালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। বাংলাদেশে গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৪২৮ জন করোনা সনাক্ত হয়েছে এবং ১১ জন মৃত্যুবরণ করেছে। মোট মৃত্যু ৫০ ছাড়িয়েছে। নতুন করে আরও ছয়টি জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে রাজশাহী, রংপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর ও নওগাঁ। এসব জেলায় লোকজন প্রবেশ করতে পারবে না এবং জেলা থেকে বাইরেও যেতে পারবে না। এদিকে বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ২০ লাখ ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যু ১ লাখ ৩০ হাজার। সাধারণ গরিব অসহায় মানুষ বড় বিপদের মধ্যে রয়েছে। তাদের না আছে খাবার ব্যবস্থা, না আছে স্বাস্থ্য সুরক্ষার আয়োজন।

মাঝে মাঝে এক মহিলা কমলাকে ঘরের কাজে সহযোগিতা করত। কমলা কিছু টাকা পয়সা দিতেন। আজকে এসেছিল কিছু সহযোগিতা চাইতে। কমলা কিছু চাল, একশ টাকা আর কিছু আলু দিয়ে দিয়েছেন।

নীলকান্তবাবু বললেন ভালো কাজ করেছ। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীরা মাঠে নেমেছে। তারা খুবই ভালো কাজ করছে।

কী করছে? কমলা জানতে চাইলেন।

তাঁরা করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছে। ‘প্রাণে প্রাণ মিলাবই বলে রাখি’ কবি ও শিল্পী কফিল আহমেদের বাণীকে উপজীব্য করে তারা মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। হ্যান্ড স্যানিটাইজারও তারা নিজেরাই তৈরি করছে।

খুবই ভালো কাজ করেছে, বললেন কমলা।

এদিকে কোথাও কোথাও ছাত্র ইউনিয়ন এবং ছাত্রলীগ এর ছেলেরা নাকি বিনা পারিশ্রমিকে কৃষকের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে। বললেন নীলকান্তবাবু।

বাহ, বাংলাদেশের ছাত্ররা আস্তে আস্তে তাদের হারানো গৌরব ফিরে পাচ্ছে তাহলে। বললেন কমলা। আচ্ছা তুমি ওয়াশরুমে চলে যাও, আর দেরি করো না।

ওয়াশরুম থেকে কাপড় চোপড় ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে বসলেন নীলকান্তবাবু। আজ কিসের গল্প?

সত্যেন বসুর গল্প, মনে করিয়ে দিলো বিন্দু।

হ্যাঁ, মজার ঘটনা দিয়ে শুরু করি।

ঠিক আছে, সম্মতি দিলো সবাই।

তুই গত পরীক্ষায় অংকে কত পেয়েছিলি? বিন্দুকে বললেন বাবা।

কেন ৯৬। এটা আবার মজার ঘটনা হলো নাকি।

কেউ কি আছিস যে একশতে একশ দশ পেয়েছিস?

ডানে বামে মাথা নাড়ল সবাই। কমলা বললেন, একশতে একশ দশ আবার কেউ পাবে নাকি! ভুল করে যদি দিয়ে দেয়, তাহলে হতে পারে।

কিন্তু না, নীলকান্তবাবু বললেন, সত্যেন্দ্রনাথ বসু ভুল না করেই একশ দশ পেয়েছিলেন।

সত্যি?

হ্যাঁ, সত্যি। হিন্দু স্কুলে পড়ার সময় এন্ট্রান্স পরীক্ষার টেস্ট পরীক্ষাতে অংক পরীক্ষার খাতা দেখছেন অভিজ্ঞ এবং জাদরেল শিক্ষক উপেন্দ্রনাথ বক্সি। তিনি দেখলেন, ছেলেটা সবগুলো প্রশ্নের সমাধান সঠিকভাবে তো করেছেই, জ্যামিতির প্রমাণগুলো একের অধিক নিয়মে করে দেখিয়েছে। তাঁকে একশতে একশ দিলে কম হয়ে যায়। খাতার কোণে লিখে দিলেন একশতে একশ দশ।

হো হো করে হেসে উঠল সবাই। আকাশ বলল, তাহলেও একশতে একশর বেশি নাম্বার দেবার সুযোগ নেই।

                পরের অংশ আগামীকাল