বেসরকারি আবাসনকে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হবে :গৃহায়ণ মন্ত্রী

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৫৬

ইত্তেফাক রিপোর্ট

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক অবদানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে আবাসন খাত। তাই আগামীতে বেসরকারি আবাসনকে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হবে। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে পাঁচ দিনব্যাপী  রিহ্যাব (রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) ফেয়ার-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররেফ হোসেন ভুঁইয়া, রিহ্যাব সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী (শাওন) এমপি, প্রথম সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভুঁইয়া।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি কিছু হাউজিং কোম্পানি যাদের কার্যক্রম, পরিবেশ বান্ধব হাউজিং প্রকল্প, নিয়ম-কানুন এবং কম্প্লায়েন্সনীতি  দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। আবার কিছু কিছু অসত্ ব্যবসায়ী যারা হাউজিং ব্যবসার নামে জনগণের সারা বছরের কষ্টার্জিত আয়ের টাকা নিয়ে প্রতারণা করছে।  তিনি বলেন, যারাই এ অসত্ ব্যবসায়ের সাথে জড়িত তাদেরকে এ ব্যবসায় পরিত্যাগ করতে হবে নইলে তাদের শেষ ঠিকানা হবে জেলখানা। রিহ্যাবের মাধ্যমে তাদের তালিকা করে আমাদেরকে দিন। আমরাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব ।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররেফ হোসেন ভুইয়া বলেন, দেশে ২ ধরনের ব্যবসায়ীর বিষয়ে মানুষের ভয় ঢুকে গেছে। একটি জনশক্তি আরেকটি  আবাসন ব্যবসা। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী আবাসন খাতে ঢুকে রিহ্যাবের সদস্য না হয়েই ফ্লাট ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করছে । তাই জনগণ এ ব্যবসায়কে ভয় পায়। তিনি বলেন, এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের সংখ্যা হাজারে কয়েকজন। এদেরকে চিহ্নিত করেই এ ভয় ভাঙতে হবে। 

রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর সামসুল আলামিন পূর্বাচলে রিহ্যাবের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের ফ্লাটগুলো সাধারণত মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ মধ্য বিত্তদের জন্য। কিন্তু জমির দামের জন্য নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আমরা কোন ফ্লাট তৈরি করতে পারছি না। তিনি বলেন, আমরা যদি সরকারের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে জমি বরাদ্দ পাই তাহলে রাজউকের চেয়ে কমদামে ফ্লাট দিতে পারব। আবাসন খাতে নিম্ন মধ্যবিত্ত লোকদের জন্য পূর্বাচলে ফ্লাট তৈরি করার জন্য সরকার থেকে রিহ্যাব এর জন্য জমি বরাদ্দ প্রয়োজন।

নুরুন্নবী চৌধুরী (শাওন) এমপি  বলেন, ফ্লাটের রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪-১৬ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার কোথাও আবাসন খাতের রিজিস্ট্রেশন ফি এত বেশি নেই। কিন্তু আমাদের দেশে তা বিদ্যমান। আর তাই ক্রেতারা ফ্লাট রেজিস্ট্রেশন না করেই ঝুঁকি নিয়েই ফ্লাটে উঠে  যায়। সরকারের রাজস্ব আরো বাড়াতে হলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে এ ফি  কমিয়ে ৬-৮ শতাংশে কমিয়ে আনতে হবে। তিনি আরো বলেন, আবাসন খাতে এক সময়ে ৮ শত কোটি টাকা রিফাইন্যান্স ফান্ড ছিল এখন তা নেই। এ সুবিধা আবার চালু করা দরকার।

প্রসঙ্গত, এবারের মেলায় ২০২টি স্টল অংশ নিয়েছে। এ ছাড়া ২০টি বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও ১৪ অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান থাকছে এ মেলায়। দর্শনার্থীরা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।