ফিলিস্তিনে সামাজিক নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৩৩

ফিলিস্তিনের রামাল্লায় দখল করা পশ্চিম তীরে একটি বিতর্কিত সামাজিক নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে প্রতিবাদ চলছে। চলতি মাসের শুরু থেকে চলছে এ আন্দোলন। এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরা বলছেন, সরকার তাদের কথা শুনছে না। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিদের নিয়ে এ বিষয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।

এদিকে রামাল্লায় গত সপ্তাহে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে বিক্ষোভ করে ফিলিস্তিনিরা। যেখানে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে হাজার হাজার শ্রমিক ফিলিস্তিনি সরকারের সদর দপ্তরের বাইরের অংশে বসতিও স্থাপন করেছে।

জেরুজালেম স্কুল অব বেথেলহামের এক কর্মী এবং জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা আন্দোলনের সদস্য জ্যাক সিরিয়ানি আইনটির বিরোধিতা করে বলেছেন, সরকার আমাদের উদ্বেগের কথা শুনছে না। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার অনুমতি পাওয়ায় সাময়িকভাবে আইনটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

এদিকে আইন বিরোধিতাকারীরা আশঙ্কা করছে, মাসিকভিত্তিক কর্মীদের মধ্যে যাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না তাদের এ আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে ছাটাই করা হতে পারে। এছাড়া তাদের অবদানে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার বিষয়ে এবং সামরিক পেশার নিয়মের ফলে এর কার্যকারিতা নিয়েও ভয় দেখা দিয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা আইন অনুমোদন দিতে ২০১৬ সালে স্বাক্ষর করেন ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাস। কিন্তু প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের প্রস্তুতি নিতে সময় দেওয়ায় এ আইন কার্যকরে দুই বছর দেরি করা হয়। এ আইনের লক্ষ্য ব্যক্তিগতখাতের কর্মীর সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিধিকে বিবেচনা করা হবে। এই আইনের আওতায় ফিলিস্তিনে কর্মরত ৫৩ শতাংশ শ্রমিক রয়েছে।

চলতি মাসের এক তারিখ এ আইন কার্যকর শুরু হলে মাসিকভিত্তিক শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনের ডাক দেয়। এ আন্দোলনের দাবির মধ্যে অবসরকালীন ভাতা, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং কর্মস্থলে দুর্ঘটনার জন্য বীমার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফিলিস্তিনের শ্রমমন্ত্রী মামুন আবু শাহলা বলেছেন, শ্রমিকরা এ আইনটি প্রত্যাখ্যান করেছে এ কারণে যে তারা আইনটি ঠিকমতো বুঝতে পারছে না। এ আইনের বিরুদ্ধে থাকা সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকার আটজন মন্ত্রীকে সদস্য করে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।