দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
গল্পটা তার সিনেমার মতো।
গত বিপিএলে কোনো দল পাননি শুরুতে। একটা দল যাও পেলেন পরে, সেই রংপুর রাইডার্স তাকে ম্যাচ খেলালো না। কয়েক দিন দলের সঙ্গে রেখে হঠাত্ ছেড়ে দিল তাকে। সেই অপমানটা বেশ গায়ে বিঁধেছিল। তারপর একটা বছর চলে গেছে। এর মধ্যে তিনি নিজেকে আরও শক্ত করেছেন।
এবার বিপিএলের শুরুতেই ঠিকানা পেয়েছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ম্যাচও খেলছেন শুরু থেকে। অবশেষে সামনে এলো সেই রংপুর রাইডার্স। এই রংপুর তাকে মাঝপথে ছেড়ে দিয়েছিল। এই রংপুর দুই দুবার কুমিল্লাকে হারিয়েছে গ্রুপপর্বে। দুই দুবার এদের বিপক্ষে এক শ রানের নিচে অলআউট হয়েছে কুমিল্লা। অনেক প্রতিশোধের মঞ্চ। আর সেই মঞ্চে উঠেই ব্যাটকে ধারালো হাতিয়ার বানিয়ে ফেললেন। ১৫ বলে ৩৪ রানের টর্নেডো এক ইনিংস খেলে রংপুরের বিপক্ষে জেতালেন কুমিল্লাকে। দলকে ফাইনালে তুলে নিয়ে এলেন সামসুর রহমান শুভ।
ব্যক্তিগত জীবনে শুভর কাছে অবশ্য এইসব প্রতিশোধ-টোধ কোনো আলোচ্য বিষয় নয়। তিনি প্রসঙ্গটা উঠতেই বললেন, এসব ব্যাপার তার মাথাতেই ছিল না। তার মাথায় ছিল কেবল দল জেতানো। আরেকটু চেপে ধরতে বললেন, গতবার রংপুর যে তাকে দলে নিয়েছিল, সে জন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ দেন; বাকি কোনো কিছু নিয়ে ভাবেন না, ‘আমি গত আসরে শুরুতে দল পাইনি। পরে তারা দলে তো নিয়েছিল। দলে অনেক তারকা ছিল বলে ম্যাচ খেলাতে পারেনি। দলে নিয়েছিল, এ জন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’
রংপুরের বিপক্ষে ঝড়ো ওই ইনিংসটা কুমিল্লাকে ফাইনালে নিয়ে গেছে। সেই ইনিংসটা লোকেদের একটু অবাকও করেছে। শুভ এমনিতে মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে খুব খ্যাত নন। অথচ উইকেটে ছিলেন ভয়ানক মারকুটে এভিন লুইস। কিন্তু শেষ ওভারগুলোতে লুইসকে ছাপিয়ে তারকা হয়ে গেলেন শুভ। কীভাবে এমনটা হলো, সে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই ব্যাটসম্যান বলছিলেন, ‘লুইসের উইকেটে থাকার দরকার ছিল। কারণ, ও থাকলে প্রতিপক্ষ বোলাররা এমনিতেই একটু দুর্বল থাকে। তাই আমি ঠিক করেছিলাম, ঝুঁকি যা নেওয়ার আমি নেব। শফিউলের ওই ওভারটায় খেলা শেষ করবো বলে আমরা ঠিক করেছিলাম; পরের ওভারে খেলা গেলে রিস্ক বেশি হয়ে যেত। আমি তাই মেরেছি। আর ভাগ্য ভালো যে, সবগুলো শট ঠিকঠাকমতো হয়েছে।’
এক সময়ের যুব দলের উজ্জ্বল তারকা ছিলেন সামসুর রহমান শুভ। সেই পথ ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলে এসেছিলেন। তিন ফরম্যাটেই দারুণ শুরু করেছিলেন। কিন্তু সামান্য ফর্মহীনতাই ছিটকে দিয়েছে সে সময়ের টপঅর্ডার এই ব্যাটসম্যানকে।
এরপর থেকে শুভ ঘরোয়া ক্রিকেটে ইনিংস শুরু থেকে শুরু করে লোয়ার অর্ডারেও খেলছেন। এবার বিপিএলেও টড ও মিডল অর্ডারে; দুই জায়গাতেই বিভিন্ন পজিশনে খেলছেন শুভ। রানও পাচ্ছেন বিপিএল, এনসিএল, বিসিএলে। জাতীয় দলের স্বপ্নটা এখনও মোটেও ম্লান হয়ে যায়নি।
শুভ স্বীকার করলেন এই যে বিভিন্ন পজিশনে খেলে রান পাচ্ছেন, এটা তাকে বেশি করে বিবেচনায় আনতে পারে এক সময়, ‘জাতীয় দলে ফিরতে পারবো কি না, জানি না। ফিরতে হলে অনেক রান করেই ফিরতে হবে। তবে আমি যে বিভিন্ন জায়গায় খেলছি, এটা আমাকে একটু হলেও এডভান্টেজ দেবে। আসলে যে দলেই খেলি না কেন, নিজের জায়গা পাচ্ছি না ইদানিং। ফলে যেখানেই খেলছি, মানিয়ে নিচ্ছি। এটা হয়তো আমাকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।’
