আরও বড় স্বপ্ন দেখছে কাতার

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৫

 স্পোর্টস রিপোর্টার

চার বছর আগের কথা। সেবার এশিয়া কাপে একটা পয়েন্টও পায়নি কাতার। অথচ তারাই কি না ২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক। আয়োজক হিসেবে পাবে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ।

কে জানতো প্রেক্ষাপটটা চার বছরের ব্যবধানে এত চমত্কৃত কায়দায় পাল্টে যাবে।

এর আগে যে কাতার দলটি এশিয়া কাপের নক আউট পর্বের একটা ম্যাচও জেতেনি, যারা নিজেদের ৩৯ বছরের লম্বা এশিয়া কাপের ইতিহাসে জিতেছে মাত্র ছয়টা ম্যাচ। যে দল ৩৫ বছর হলো দেশের বাইরে এশিয়া কাপের কোনো ম্যাচই জেতেনি, সেই দলটাই কি না এবার জিতে গেল টানা সাতটা ম্যাচ, প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলা এশিয়া কাপে।

এবার দলটি স্বপ্ন দেখছে আরো বড় কিছু করার। চলতি বছরেই অনুষ্ঠিতব্য কোপা আমেরিকায় চোখ রাখছে তারা। এখানেই শেষ নয়, নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপেও তিন বছর বাদে চমকে দিতে চায় এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। সেই লক্ষ্যে এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে তাদের প্রস্তুতি।

এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে গ্রুপ পর্যায়ে লেবাননকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুরু করে কাতার। উত্তর কোরিয়াকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে। শেষ ম্যাচে শক্তিশালী সৌদি আরবকে হারায় ২-০ গোলে।

তবে, বড় চমকটা দলটি জমিয়ে রেখেছিল নক আউট পর্বের জন্য। প্রথমে ২০০৭ সালের বিজয়ী দল ইরাককে হারিয়ে দলটি পায় কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। সেখানে দেখা হয় তারকাবহুল দক্ষিণ কোরিয়ারর সাথে। সেখানে আসে ১-০ গোলের জয়। সেমিফাইনালে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় স্বাগতিক দল সংযুক্ত আরব আমিরাতকে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল জাপানের বিপক্ষে ফাইনালটা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জয় আসে ৩-১ ব্যবধানে। এই পারফরম্যান্স এখন ভবিষ্যতে আরো বড় কিছুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে কাতার দলকে। কোচ ফেলিক্স সানচেজ সেই কথাটাই বললেন, ‘আমাদের দল দেশের হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই অর্জনে আমরা গর্বিত। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি যে পরিশ্রম আর একাগ্রতা থাকলে ভালো ফলাফল আনা সম্ভব। এটা আমাদের কোপা আমেরিকা ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ভালো করার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেবে।’

কিছু ছোট ছোট ব্যাপারেও নিজেদের এগিয়ে যাওয়াটা প্রমাণ করেছে কাতার। এই প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ইতিহাসে কোনো দল নিজেদের প্রথম ছয়টি ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি। টুর্নামেন্টে টানা ৬০৯ মিনিট কোনো গোল হজম না করে কাটিয়ে দেওয়া কাতারের সাদ আল সাহিব নির্বাচিত হয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক।

এশিয়া কাপ ইতিহাসের রেকর্ড ১০টি গোল অ্যাসিস্ট করেছেন আকরাম আফিফ। যদিও সংখ্যাটা আরো বেশি হতে পারতো। কারণ, এই ফরোয়ার্ড ২৬টি গোল করার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন টুর্নামেন্ট জুড়ে।

টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা (নয়টি গোল) ও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারজয়ী আলমোয়েজ আলি জানালেন এখন তাদের লক্ষ্য ২০২২ বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা ২০২২ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেছি। আর আমরা যে সঠিক পথেই আছি সেটা এশিয়া কাপের পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে দিচ্ছে। আর বিশ্বকাপে আমরা নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধাটাও পাবো। ফলে, বিশ্বকাপে আশা করি, আমরা আরো ভালো কিছু করতে পারবো।’