কোথাও সামান্য পানি, কোথাও ধুধু বালুচর। কোথাও বা চাষাবাদ। দখল দূষণ আর নাব্য হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে যেন এক সময়ের প্রমত্তা যমুনেশ্বরী। সরেজমিনে উপজেলার দামোদরপুর ইউপির গুদামপাড়া এলাকায় যমুনেশ্বরী নদীর এই করুণ চিত্রই চোখে পড়ে। নদী পাড়ের বাসিন্দা গোপিনাথ বিশ্বাস জানান, একসময় বদরগঞ্জ ছিল নদীবিধৌত এলাকা। বাপ-দাদার কাছে শুনেছি, এখানে বন্দর থাকার কারণে এই যমুনেশ্বরী নদীতে বড় বড় পালতোলা নৌকা আর পানি জাহাজ চলাচলের প্রচলন ছিল। এখন তা সুদূর অতীত।
জেলে নিপেন রায় বলেন, এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। অনেক মাছ এখন হারিয়ে গেছে। একসময় এই নদীতেই আমার পূর্বপুরুষরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। এখন আর সে দিন নেই। মধুপুর ইউপির নদীর তীরবর্তী এলাকা নাওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোকছেদুল হক জানান, নদীতে পানি না থাকায় আমাদের খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়াও ফসলের ক্ষেত-খামারে পানির স্বল্পতা দেখা দেয়ায় আবাদ ঠিকমতো হচ্ছে না। বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান, যমুনেশ্বরী নদীর পানি শুকিয়ে যাবার কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। জরুরি ভিক্তিতে নদীটির খনন প্রয়োজন। এ ছাড়াও দখল ও দূষণ রোধে অস্তিত্ব সংকটে পড়া নদীটিকে বাঁচাতে কার্যকর পদক্ষেপ এখনই নেয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় বলেন, খনন না করার কারণে নদীতে পলি জমে শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা ভূ-গর্ভস্থ পানি অতিরিক্ত ব্যবহারে পানির স্তর নিম্নমুখী হচ্ছে। এমতাবস্থায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলের চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমান জানান, অস্তিত্ব সংকটে পড়া যমুনেশ্বরী নদী দ্রুত খনন করা না হলে তীরবর্তী জমির ফসলের উত্পাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
