শেবাচিমে ঘুষ না দেওয়ায় অক্সিজেন দিতে গড়িমসি :রোগীর মৃত্যু

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২১, ২২:৪৯

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অক্সিজেনের অভাবে রানু বেগম (৫০) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঐ রোগীর মৃত্যু হয় বলে জানান তার ছেলে আল আমিন। রোগীর স্বজন স্বপন জানান, সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ড পলাশপুর নতুন ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা আ. জলিলের স্ত্রী রানু বেগম কয়েক দিন ধরে মাথাব্যথা ও জ্বরে ভুগছিলেন। এছাড়া তার অ্যাজমা ছিল। এ কারণে প্রায়ই শ্বাসকষ্ট হতো। এতদিন জ্বর থাকলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। বিকালের দিকে তারা হাসপাতালে নিয়ে আসলে করোনা ইউনিটে ভর্তি করাতে বলেন। সেখানে গেলে ডাক্তার অক্সিজেন দিতে বলেন।

স্বপন আরো জানান, অক্সিজেনের জন্য আমরা নিচতলার ওয়ার্ড মাস্টারের রুমে গেলে তিনি নার্সের রুমে পাঠান। নার্সের কাছে গেলে তিনি ওয়ার্ড মাস্টারের কাছে পাঠান। ওয়ার্ড মাস্টার আমার কাছে সিলিন্ডারের জন্য ৫০০ টাকা দাবি করেন। আমরা টাকা দিতে না চাইলে তিনি সিলিন্ডারও দেননি। টাকা না দেওয়ায় সে আমাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন।

রানু বেগমের ছেলে আল আমিন জানান, ‘আম্মাকে নেওয়ার জন্য একটা ট্রলি আনতে গিয়েছি, আমার কাছে দেড়শ টাকা দাবি করেন। চিকিত্সা পেলে আমার মা মারা যেত না। অক্সিজেন দেওয়ার জন্য অক্সিজেনের মিটার কিনতে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। শেষে আমরাই অক্সিজেন পরিমাপের মেশিন কিনে আনি। তারপরও তারা অক্সিজেন দেন নাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ গাফিলতিতে আমার মা মারা গেছেন। হাসপাতাল সরকারি হলেও টাকা ছাড়া এখানে কোনো চিকিত্সা পাওয়া যায় না। আমার মা অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন। এখানে নিয়ে আসার পরে একজন ডাক্তার, নার্স কেউ কাছে আসেনি। ছটফট করতে করতে অক্সিজেনের অভাবে আমার মা মারা গেছে।’ এ বিষয়ে করোনা ওয়ার্ডের অভিযুক্ত ওয়ার্ড মাস্টার মশিউর রহমান জানান, তিনি কোনো রোগীর স্বজনকে গালিগালাজ করেননি। তাছাড়া অক্সিজেন দেওয়ার এক্তিয়ার তার নেই। অক্সিজেন দিয়ে থাকেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরা।

শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, করোনা ইউনিট থেকে অক্সিজেন দেওয়া হবে না এমন হওয়ার কথা নয়। অক্সিজেন সিলিন্ডার দিতে স্টাফরা টাকা দাবি করবেন এটিও হওয়ার নয়। পুরো বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এর আগে এমন কখনো হয়নি। অন্য সব রোগীকে অক্সিজেন দিলে তাকে কেন হাসপাতাল থেকে অক্সিজেন দেওয়া হবে না—বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। এই কর্মকর্তা বলেন, আমি খোঁঁজ নিয়ে দেখছি আসলে কি ঘটেছিল।