প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত সরকারি অনুদানে ভবন নির্মাণ হয়নি এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এ তালিকা ধরেই এসব প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় অনেক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। যেগুলো ব্যক্তিপর্যায় থেকে অনুদান নিয়ে কোথাও টিনের ছাউনি দিয়ে অস্থায়ীভাবে ভবন তৈরি করা হয়েছে। ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে বা সামান্য ঝড়েই ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা, এসব কারণে অল্প ঝড়-বৃষ্টিতেই ছুটি দিতে হয় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এবার এসব প্রতিষ্ঠান খুঁজে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩২ হাজারেরও বেশি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে গত ১০ বছরে ১১ হাজার ৩০৬টি স্কুলে ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে আরো ১২ হাজার ৬৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে ভবন নেই এমন প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করে কাজ শুরু হবে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা বলেন, শুধু রাজস্ব খাতের অর্থ থেকেই প্রতিবছর নতুন ২ হাজার ভবন নির্মাণ করা হবে। এর বাইরে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকেও চাহিদা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করা হবে। সহজে ও দ্রুত সময়ে কাজের জন্য অনলাইনে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। এছাড়া ভবন নির্মাণের কাজ বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে।
নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুসরণ করা হবে বলে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করে এসব ভবনের নকশা প্রণয়ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় এসব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব ভবনে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পৃথক টয়লেট, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য র্যাম্প এবং পৃথক টয়লেট, টানা বারান্দা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা, ঢালু ছাদ এবং ছাদে লাল টালি স্থাপন, শহর এলাকায় ছয় তলা, সিটি কর্পোরেশন ব্যতীত অন্যান্য এলাকায় চার তলা ভবন, হাওর, বিল এবং বন্যাপ্রবণ এলাকায় নিচতলা ফাঁকা রেখে পাঁচ তলা আশ্রয় কেন্দ্র কাম শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, কোস্টাল এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং পাহাড়ি এলাকায় ভবন প্রোটেকশন ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
