১৬ বছর পর শুরু হচ্ছে আলু আত্মসাত্ মামলার বিচার

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪২

২২ বছর ধরে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন আলু আত্মসাতের এক মামলা। এর মধ্যে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে ১৬ বছর বন্ধ ছিল বিচার কার্যক্রম। বিষয়টি নজরে আসায় হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়ে মামলা বাতিল প্রশ্নে জারিকৃত রুল খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে ক্ষমা প্রার্থনা করায় আসামি পক্ষের দুই আইনজীবীকে এক লাখ টাকা জরিমানা থেকে রেহাই দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ইত্তেফাককে বলেন, এতদিন মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দেড় যুগ পর নিম্ন আদালতে এ মামলার বিচার কার্যক্রম চলবে। মামলাটি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জের সিনিয়র  স্পেশাল জজ আদালতে বিচারাধীন আছে।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৪৪ লাখ টাকা ঋণের জামানত হিসেবে রক্ষিত এগারো লাখ কেজি আলু আত্মসাতের ঘটনায় ১৯৯৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তত্কালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো সাতজনকে আসামি করে মামলা করে। মামলার এজাহারে বলা হয়, মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি থানার এ্যাকো ইন্ড্রাস্ট্রি এন্ড কোল্ড স্টোরেজ এর পক্ষে জনতা ব্যাংক বেতকা শাখা থেকে ২ হাজার ৭২০ টন আলুর বিপরীতে ৩০ ভাগ মার্জিনে ৯৮ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা মঞ্জুর করা হয়। কিন্তু কোল্ড স্টোরেজে ৪৪ লাখ টাকা পি.সি ঋণের জামানত হিসাবে রক্ষিত ১৫ হাজার ৪৭৯ বস্তা (১১ লাখ ৬ হাজার ৯২৫ কেজি) আলু আত্মসাত্ করা হয়।

পরে এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। অভিযোগ গঠন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মামলার আসামি জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার সাবেক ম্যানেজার বিরাজ কান্তি ভৌমিক। ওই আবেদনে ২০০৩ সালের ৮ জানুয়ারি মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। এছাড়া মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। কিন্তু এত দিনে রুল শুনানির উদ্যোগ নেয়নি মামলার বাদী বা বিবাদী কোনো পক্ষই। সম্প্রতি মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় আসে। দীর্ঘদিন শুনানির উদ্যোগ না নেওয়ায় আসামির আইনজীবী মানিক লাল আচার্যকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে হাইকোর্ট। তখন আইনজীবী জানান, এই মামলায় সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে এ বি রায় চৌধুরী রয়েছেন। আদালত বলেন, আপনাকে ৫০ হাজার ও আপনার সিনিয়রকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলো। পরে মানিক লাল আচার্য ক্ষমা প্রার্থনা করলে জরিমানা থেকে রেহাই দেয় আদালত।