পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয়ের পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে তত্পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও তার ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জি। এরই মধ্যে ত্রিপুরা নিয়ে মাঠে নেমেছেন অভিষেক ব্যানার্জি। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জিতে ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গড়বে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অভিষেক। এর মধ্যেই তৃণমূল নেতৃত্ব নজর দিচ্ছে আসামের দিকে। সে রাজ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলনের নেতাকে দলে যোগদানের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, আসামের শিবসাগরের বিধায়ক তথা রাজৌর দলের নেতা অখিল গগৈকে দলে যোগদানে প্রস্তাব দিয়েছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজৌর দলের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই দুইবার কলকাতায় এসে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে প্রথমে তাদের সরাসরি তৃণমূলে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিকল্প পথ হিসেবে আসামে জোট গড়ে ভোটে লড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আসামের রাজনীতিতে অখিল গগৈ পরিচিত নাম। গত দুই দশক ধরে সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ‘ইন্ডিয়া এগেইনিস্ট করাপশন’ সংগঠনকে সামনে রেখে ভারতীয় রাজনীতিতে দুর্নীতি রুখতে আসামে ব্যাপক আন্দোলন করেছিলেন তিনি। ঐ রাজ্যের কৃষকদের দাবি আদায়ের জন্য ‘কৃষক মুক্তিসংগ্রাম সমিতি’ গড়েও সরব হয়েছিলেন।
আসামের রাজনীতিতে তার আত্মপ্রকাশ ২০১৯ সালে মোদি সরকারের আনা নাগরিক সংশোধনী আইনবিরোধী আন্দোলন করে। সেই আন্দোলনের জেরে জেল খাটতে হয়েছে তার। ২০২১ সালে আসামের বিধানসভা নির্বাচনে রাজৌর দল থেকে বেশকিছু প্রার্থীও দিয়েছিলেন অখিল। শিবসাগর আসন থেকে নিজে জিতলেও বাকি কোনো আসনে তার দলের প্রার্থী জয়লাভ করেননি। এরপরও আসামে অখিল গগৈর মতো একজন জনপ্রিয় নেতাকে দলে পেলে নিঃসন্দেহে তৃণমূলের শক্তি বাড়বে। তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন রজৌর দলে অখিল-ঘনিষ্ঠ নেতা অম্লানজ্যোতি গগৈ। তিনি বলেন, এখনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। আলাপ-আলোচনা চলছে।
প্রসঙ্গত, নাগরিক সংশোধনী বিল সংসদে আনার আগে থেকেই তার বিরোধিতা করে আসছিল তৃণমূল। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, তাদের সিএএবিরোধী অবস্থান আসামের রাজনীতিতে ‘সহায়ক’ হতে পারে। তাই আসামে তাদের দলে অখিলের মতো নেতা পেলে তৃণমূলের সংগঠন বিস্তারে সুবিধা হবে।
