‘আমার স্বামীর কঙ্কালটা অন্তত ফিরিয়ে দাও’

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:২৮

আলোচিত সাত খুনের প্রধান আসামি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেন ও র্যাবের বহিষ্কৃত অধিনায়ক তারেক সাঈদকে দুই কোটি টাকা দিতে না পারায় সাত খুনের ঘটনার মাত্র ২ মাস আগে আওয়ামী লীগ নেতা ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনকে অপহরণের পাঁচ বছর পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় না পাওয়ায় ইসমাইলের পরিবার এখনো অপেক্ষার প্রহর গুণছে। ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ইসমাইল হোসেন অপহূত হন।

গতকাল বুধবার এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে ইসমাইলের স্ত্রী জোসনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী জীবিত আছে কিনা জানি না। তবে আমি আমার স্বামীর অপহরণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। কারা আমার স্বামীকে অপহরণ করেছে এটা সবাই জানে। জোসনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার স্বামীকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও। জীবিত দিতে না পারলে অন্তত তার কঙ্কালটা আমাকে ফিরিয়ে দাও।” তিনি বলেন,  আমার স্বামীকে অপহরণের ব্যাপারে যাদের সন্দেহ করেছি তারা ঘটনার পর থেকেই আমাকে ও আমার ছেলেকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। আমার ছেলেকে হত্যা চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাকে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেছে।

গত ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকা থেকে অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ী ইসমাইলকে অপহরণ করে। বর্তমানে মামলাটি পুলিশের অপরাধ বিভাগে (সিআইডি) তদন্তনাধীন আছে। ইসমাইল অপহরণের ঘটনার সময় র্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক ছিলেন সাত খুনের ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক সাঈদ। তার বিরুদ্ধে মুক্তিপণ বাবদ ২ কোটি টাকা দাবির অভিযোগ তুলেছিলেন ইসমাইলের পরিবারের সদস্যরা। বাদী পক্ষের আইনজীবী শাহ মাজহারুল জানান, ইসমাইল অপহরণ মামলায় কুতুবপুর এলাকার মোশারফ হোসেন, নাছির উদ্দিন, কাইয়ুম, মামুন, সেলিম ও কাউছারের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পূর্বশত্রুতার জের ধরে তারা অপহরণ করতে পারে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ইসমাইল হোসেন অপহরণ মামলাটি প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্ত করেছিল। পরে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে গত বছরের ৩০ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে ইসমাইল অপহরণ হয়েছে বলা হলেও আসামিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। এ চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি প্রদান করেন মামলার বাদী অপহূতের ছোট ভাই আব্দুল মান্নান। নারাজি আবেদন শুনানিশেষে সিআইডিকে মামলা তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। মামলার বাদী অপহূতের ছোট ভাই আব্দুল মান্নান জানান, মামলা দায়েরের কয়েকদিন পর সিদ্ধিরগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেনের মাধ্যমে তত্কালীন সময় আদমজী নগর র্যাব-১১ এর সিও তারেক মোহাম্মদ সাঈদ মুক্তিপণ হিসেবে দুই কোটি টাকা দাবি করেন। তাদের কাছে আমার ভাই ইসমাইল রয়েছে তার প্রমাণ হিসেবে এক সোর্সকে দিয়ে একটি চিরকুট পাঠায় তারেক সাঈদ। এরপর এক কোটি টাকা নিয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়। এরপর আওয়ামী লীগ নেতা ব্যবসায়ী ইসমাইলকে গত পাঁচ বছরেও জীবিত কিংবা মৃত অবস্থায় ফিরে পাওয়া যায়নি।