দেশের ডেইরি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২১, ২০:১৬

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

 

আমাদের দেশের ডেইরি শিল্প আগের তুলনায় অনেক এগিয়ে গেছে। ডেইরি শিল্পের এই অগ্রযাত্রার পেছনে বেশ কিছু উদ্যোগী খামারির আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল। সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ডেইরি ফার্মগুলো তরল দুধের মোট চাহিদার কাছাকাছি চাহিদা পূরণ করছে। তরল দুধের সহজ লভ্যতার কারণে বর্তমানে দেশে দুধের নিত্যনতুন উপকরণ তৈরি হচ্ছে। তরল দুধের চাহিদার পাশাপাশি মাংসের চাহিদা পূরণ করছে ডেইরি ফার্মগুলো।

বর্তমানে গরুর মাংসের জন্য বিদেশ থেকে গরু আনতে হচ্ছে না। দেশি ডেইরি ফার্মগুলোতে উত্পাদিত গরু দিয়ে গরুর মাংসের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর আগেও কোরবানির ঈদের সময় কোরবানি দিতে দেশের বাইরে থেকে গরু আনতে হতো। বাইরের গরু না এলে কোরবানির বাজারে গরু-ছাগলের সংকট দেখা দিত। গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে কোরবানির ঈদের বাজারে দেশের বাইরে থেকে গরু আনা অনেক কমে গেছে। এবারের কোরবানির ঈদের সময় সারা দেশে প্রচুর গরুর সমাবেশ হয়েছিল। ঈদের বাজারে গবাদি পশুর কোনো সংকট দেখা দেয়নি। করোনা মহামারির কারণে সবাই অনলাইনে কোরবানির গরু ক্রয় করেছেন।

দেশের ডেইরি ফার্মগুলো এই গরু সরবরাহ করেছে। কোরবানির ঈদের বাজারে প্রচুর গরু-ছাগল আসায় ঈদের বাজারের শেষের দিকে গরুর দাম একেবারে কমে গিয়েছিল। এতে ক্রেতাদের লাভ হয়েছিল। কিন্তু গরু-ছাগলের দাম কমে যাওয়ার গরু ব্যাপারী এবং খামারিরা লোকসানের মুখে পড়ে। তবে ডেইরি ফার্মের মালিকরা তেমন লোকসানে পড়েনি। কারণ তারা আগে থেকেই অনলাইনে তাদের প্রায়ই গরু বিক্রি করে দিয়েছিল। এতে তারা লাভের মুখ দেখতে পেয়েছিল। খামারিদের অবিক্রীত গরুগুলো তারা পরের বছর বিক্রির জন্য রেখে দিয়েছে।

বর্তমানে দেশের অধিকাংশ ডেইরি ফার্ম পরিচালনা করছে শিক্ষিত তরুণ-যুবকরা। তারা তাদের মেধা দিয়ে গরু লালন-পালন করে থাকে। যে কারণে ডেইরি ফার্মের গুরুগুলোর তেমন সমস্যা হয় না। দেশে দিন দিন ডেইরি ফার্মের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেইরি শিল্পের মালিকদের সহজশর্তে ঋণ প্রদান, আর্থিক সহযোগিতা, ওষুধ বিতরণ, গবাদি পশুর খাদ্যের দাম কমিয়ে আনলে ডেইরি শিল্পের মালিকরা আরো এগিয়ে যেতে পারবে। উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের দেশও গরুর দুধ এবং মাংস বিদেশে রপ্তানি করার বিরাট সুযোগ রয়েছে।