কক্সবাজারে বন্যায় ৪৪ কিলোমিটার সড়ক বাঁধের ক্ষতি

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২১, ২২:৪৪

গত মাসের শেষ সপ্তাহের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট পাঁচ দিনের বন্যায় কক্সবাজার জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্লাবনের পর পানি নেমে গিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে এসব ক্ষয়ক্ষতি। জেলা প্রশাসনের হিসাবমতে, কক্সবাজারের ৯ উপজেলার অর্ধশত ইউনিয়নের ৫০০টি গ্রামের প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়ক, উপসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর ছয় কিলোমিটার, ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীর পাঁচ কিলোমিটার বাঁধ এবং রামুর বাঁকখালী নদীর তিন কিলোমিটার বাঁধ ও নদীর তীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। এখনো ভাঙন অব্যাহত। বাড়িঘর নদীতে বিলীনের আশঙ্কায় অন্যত্র সরে যাচ্ছেন অনেকে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রমতে, গত ২৬ জুলাই হতে কক্সবাজারে টানা বর্ষণ চলে। এতে পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের ৫১টি ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি ছিল প্রায় লাখো মানুষ। এসব এলাকার সড়ক, উপসড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও পরিপূর্ণ ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে আরো সময় লাগবে। পানি নেমে যাওয়ার পর কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার মুক্তারকুল, খরুলিয়া, চাঁন্দের পাড়া, মুহুরীপাড়া, এসএমপাড়া, পিএমখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া, ঘাটকুলিয়াপাড়া, পাতলি, মুহসিনিয়াপাড়া, ধাওনখালী, খুরুশস্কুল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল, তেতৈয়া, ভারুয়াখালীর নিম্নাঞ্চল, ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালী, ইসলামপুর, ঈদগাঁও, জালালাবাদ, রামুর ফতেখারকুল, রাজারকুল, মিঠাছড়ি, চাকমারকুল, জোয়ারিয়ানালা, কাউয়ারখোপ, রশিদ নগর, চকরিয়া পৌরসভা, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, হারবাং, লক্ষ্যারচর, ফাঁসিয়াখালী, বমুবিল ছড়ি, চিরিংগা, ডুলাহাজারা ও খুটাখালী, বিএম চর, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, বদরখালী, কোনাখালী, সাহারবিল ও বরইতলী, পেকুয়ার একাধিক ইউনিয়ন, উখিয়ার পালংখালী, রাজাপালং, টেকনাফের হ্নীলা, শাহপরীর দ্বীপ, হোয়াইক্যংসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সড়কের ক্ষতচিহ্ন দৃশ্যমান হচ্ছে।

ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন, এখনো বর্ষা শেষ হয়নি। প্রথম ঢল ও বন্যায় এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আগের চেয়ে এখন কঠিন হয়ে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর অনেকের ভিটা, বাগান, ফসলি জমি নদীর বুকে তলিয়ে যাচ্ছে। সামনে আবারও টানাবৃষ্টি ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

কক্সবাজার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান বলেন, বানের পানি নামার পর বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হলে আমরা মাঠ পর্যায়ে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ কিলোমিটারের মতো সড়ক, উপসড়ক নষ্ট হয়েছে বলে পরিসংখ্যান মিলেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজারের নতুন উপজেলা ঈদগাঁওতে। জেলাব্যাপী ক্ষতি আরো বাড়তে পারে। যেসব সড়ক বেশি চলাচল অনুপযোগী হয়েছে সেসব অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)র নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় মাতামুহুরী নদীর একাধিক পয়েন্টে প্রায় ছয় কিলোমিটার, ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীর জালালাবাদ ফরাজীপাড়া, বাঁশঘাটা, পোকখালীসহ একাধিক পয়েন্টে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বাঁধ এবং রামুর বাঁকখালীর কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন হতে ঝিলংজা-পিএমখালীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার বাঁধ ও নদীর তীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। এছাড়াও টেকনাফ এবং মহেশখালীর কিছু অংশ ক্ষতি হয়েছে। সব ভাঙনের কথা উল্লেখ করে বাজেট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। যেসব এলাকা অতি গুরুত্বপূর্ণ তা আগে সংস্কারে হাত দেওয়া হচ্ছে। তীর ও বসতভিটা ভাঙন রোধে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পাউবো।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় পাহাড় ধস ও বানে ভেসে ২২ জন মারা যাবার তথ্য মিলেছে। পাহাড় ধসে মারা যাওয়াদের জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। বন্যায় দুর্গতদের ৩০০ টন চাল, আড়াই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং নগদ ১৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আইএনজিও এবং এনজিওগুলো বন্যাদুর্গতদের সহযোগিতা দিয়েছে এবং এখনো দিচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, প্লাবন ও পাহাড়ি ঢলে আর্থিক ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। আশা করছি শিগিগরই ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। সে মতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।