আইনজীবীর বিচারের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আপিল বিভাগের বিচারকাজ

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ২২:৪০

অবকাশকালীন ছুটি শেষে আজ রবিবার থেকে আবার বসছে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। প্রথম দিনে আদালত অবমাননা মামলার শুনানির মধ্য দিয়ে শুরু হবে আপিল বিভাগের বিচারকাজ। প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে আদালত অবমাননার দায়ে আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম আশরাফকে তলব করে সর্বোচ্চ আদালত। আজ সকাল ৯টায় আপিল বিভাগের এক নম্বর বিচার কক্ষে তাকে হাজির থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. ইমান আলীর সভাপতিত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চে এ আদালত অবমাননা মামলার ভার্চুয়ালি শুনানি হবে। এদিকে অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালসমূহে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধই থাকছে। করোনা              সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি থাকায় এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। তবে আজ থেকে ফৌজদারি মামলার আসামিরা আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের দরখাস্ত দাখিলের সুযোগ পাচ্ছেন। এসব আবেদনের শুনানি হবে শারীরিক উপস্থিতিতে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

এছাড়া হাইকোর্টের ১২টি বেঞ্চে ভার্চুয়ালি চলবে বিচারকাজ। এসব বেঞ্চকে ফৌজদারি, দেওয়ানি ও রিট মোশন মামলা শুনানির এক্তিয়ার দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তবে ফৌজদারি মোশন বেঞ্চগুলোকে আগাম জামিন শুনানির এক্তিয়ার দেওয়া হয়নি। করোনা সংক্রমণ থেকে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণকে রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অধস্তন আদালতে যেভাবে চলবে বিচার

দেশের অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালগুলোতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ রবিবার হতে ১২ আগস্ট পর্যন্ত শারীরিক উপস্থিতি ব্যতীত ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি দরখাস্ত/ আপিল/ বিবিধ মামলাসহ সব ধরনের শুনানি গ্রহণ (সাক্ষ্য ব্যতীত) ও নিষ্পত্তি হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনপূর্বক সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে শারীরিক উপস্থিতিতে অধস্তন দেওয়ানি আদালতে সাকসেশন ও অভিভাবকত্ব নির্ধারণ বিষয়ক মামলা দায়ের, শুনানি ও নিষ্পত্তি করা যাবে। শারীরিক উপস্থিতিতে ফৌজদারি আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোতে নালিশি মামলা দায়ের করা যাবে। এছাড়া ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি/ ব্যক্তিগণ অধস্তন ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালগুলোতে শারীরিক উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণের আবেদন দাখিল করতে পারবেন। এক্ষেত্রে শুনানি কার্যক্রমের পদ্ধতি ও সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ ও সমন্বয় করতে হবে, যাতে আদালত প্রাঙ্গণে ও আদালত ভবনে কোনো জনসমাগম না ঘটে। আত্মসমর্পণ দরখাস্ত শারীরিক উপস্থিতিতে শুনানির সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তার পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী ব্যতীত অন্য কোনো আইনজীবী এজলাস কক্ষে অবস্থান করবেন না। একটি আত্মসমর্পণের দরখাস্ত শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এজলাস কক্ষ ত্যাগ করার পর বিচারক/ ম্যাজিস্ট্রেট- পরবর্তী আত্মসমর্পণের দরখাস্ত শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন।

জামিন শুনানিতে আসামি নয়

অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে জামিন শুনানিকালে এবং আমলি আদালতের হাজিরার জন্য হাজতি আসামিদের কারাগার হতে প্রিজনভ্যান বা অন্য কোনোভাবে আদালত কক্ষে হাজির না করার নির্দেশ দেওয়া হলো। প্রসঙ্গত করোনার কারণে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অধস্তন আদালতের প্রায় সব ধরনের বিচার কার্যক্রম বন্ধ ছিল।