পরীমনির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা বদলি

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ২২:৪৩

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনির সঙ্গে মামলা তদন্তের খাতিরে সম্পর্কের অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম সাকলায়েনকে ডিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) পশ্চিমে বদলি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।          উল্লেখ্য, ঢাকা বোট ক্লাবের নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে পরীমনির দায়ের করা মাদক মামলার তদন্তের তত্ত্বাবধায়ক (সুপারভাইজার) ছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম সাকলায়েন।

গতকাল দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘পরীমনির সঙ্গে ডিবি কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ মেলামেশা থাকলে তা অনৈতিক। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হচ্ছে। যেহেতুে তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ উঠেছে তাই তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগর সত্যতা মেলে তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

ডিএমপির উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, এডিসি গোলাম সাকলায়েন শিথিলকে ডিবির সব দায়িত্ব থেকে নিবৃত্ত করা হয়েছে। তাকে প্রত্যাহারের বিষয়টি পুলিশ সদরদপ্তর থেকে অফিসিয়ালি জানানো হবে।

এদিকে রাজারবাগ পুলিশ অফিসার্স কলোনির মধুমতি ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে দেখা গেছে, পহেলা আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে পরীমনির সাদা রংয়ের একটি হ্যারিয়ার গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৫ ৯৬ ৫৩) নিয়ে মধুমতি ভবনের সামনে আসে। প্রথমে সেই গাড়ি থেকে লাল রঙয়ের টি-শার্ট পরিহিত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম সাকলায়েন নামেন। এরপর সাদা রঙয়ের একটি স্লিপিং গাউন পরিহিত অবস্থায় নামেন হালের আলোচিত নায়িকা পরীমনি। এ সময় তার কোলে ছিল প্রিয় বাদামি রঙয়ের কুকুর, যার নাম পরীমনি আদর করে দিয়েছে ‘কুটু’।

পুলিশ কর্মকর্তাদের বাসভবনের নিচে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে বাসার চাবি নেন গোলাম সাকলাইন। এর পর তারা দুজন লিফটে করে ঐ কর্মকর্তার বাসায় যান। এরপর পরীমনির গাড়ি থেকে একটি ট্রলি ব্যাগও ঐ কর্মকর্তার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর রাত দেড়টা, ঐ ভবনের সামনে আবার আসে পরীমনির গাড়ি। চালক কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে সেখানে ঢোকেন। সোয়া ২টার দিকে পরীমনি তার প্রিয় কুটু ও ঐ পুলিশ কর্মকর্তা এবং সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ট্রলি ব্যাগসহ বহুতল সেই ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন। সকালের সাদা পোশাকের পরিবর্তে এ সময় পরীমনির পরনে ছিল কালো রঙয়ের পোশাক আর পুলিশ কর্মকর্তার লাল টি-শার্টের পরিবর্তে সাদা রঙয়ের টি-শার্ট।

পরীমনির গাড়িচালক মো. নাজির হোসেন একটি গণমাধ্যমে ঐ দিনের বিশদ ঘটনা বর্ণনা করে জানিয়েছেন, সকাল ৭টার দিকে পরীমনির ফোন পেয়ে তিনি বনানীর বাসায় যান। সেই বাসা থেকে একসঙ্গে গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও পরীমনি হ্যারিয়ার গাড়িতে ওঠেন। এরপর তিনি তাদের ঐ পুলিশ কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে নামিয়ে চলে যান। আবার রাতে ফোন পেয়ে সেই ভবনের সামনে যান। তখন তাকে নিরাপত্তা কর্মীরা নানা প্রশ্ন করেছিলেন।

নাজির আরো জানান, এর আগেও পরীমনি ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েন মধ্যরাতে হাতিরঝিল এলাকায় গাড়িতে ঘুরেছেন। ঐ গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে পরীমনির বিয়ে হয়েছে কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজির জানান, তিনি বিষয়টি সঠিক জানেন না; তবে শুনেছেন, তারা বিয়ে করেছেন।

এদিকে এডিসি গোলাম সাকলায়েন দাবি করেন, পরীমনি তার বাসায় যাননি। এসব ব্যাপারে তিনি বলেন, পরীমনির সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। কার সঙ্গে আমি গাড়িতে ঘুরব সেটা একটি অন্য বিষয়। তবে, পরীমনিকে আমি বিয়ে করিনি। তিনি আরো বলেন, ‘বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর, পরীমনি এই মুহূর্তে ডিবি কার্যালয়ে আছে সেখানেও তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে।’

পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বলেন, কোনো মামলাসংশ্লিষ্ট নারীকে নিজ বাসায় নিয়ে যাওয়া পুলিশের কোনো ধরনের কোড অব কন্ডাক্টের মধ্যে পড়ে না। এটা খুবই অশোভনীয় ও অপেশাদার কর্মকাণ্ড। এটি কোনো স্বাভাবিক ভব্যতার মধ্যে পড়ে না।