করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে দেশের হাসপাতাল-গুলো আর রোগীর চাপ নিতে পারছে না। এই পরিস্থিতি জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সময় এসেছে করোনা ভাইরাসের রোগী কমানোর। শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেশন হলে কোভিড-১৯ ফিল্ড হাসপাতাল উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
কোভিড-১৯ মহামারির দেড় বছরে এখনই সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ। গত চার দিনেই ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এত কম সময়ে এত বেশি মৃত্যু আর কখনো ঘটেনি। মৃত্যুর সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। কিছু দিন ধরেই দিনে ১২ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা শহরে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার করোনা ভাইরাসের বেডের মধ্যে ১ হাজার বেডও খালি নেই, এই অবস্থায় আমরা আছি।’ তিনি জানান, ঢাকার সরকারি হাসপাতালে ৮০০ আইসিউ শয্যা, আর বেসরকারি মিলিয়ে ১ হাজার ৫০০ আইসিইউ শয্যা রয়েছে। সারা দেশে ১৭ হাজার শয্যা এখন কোভিড রোগীদের জন্য। পাশাপাশি ডেঙ্গু এসে ঘাড়ে বসেছে। কোভিডে এখন নারীদের আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। আগে মহিলাদের মৃত্যু এবং আক্রান্ত কম ছিল, প্রায় ২০-২৫ ভাগ, এটা এখন প্রায় ৪৫ পার্সেন্ট। মহিলাদের আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা কেন বাড়ছে, এটা আমাদের খেয়াল করতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত দুই মাসের তুলনায় রোগী সাত গুণ বেড়েছে। ডাক্তাররা কাজ করছেন, আমরা টিকার কাজ করছি, ফিল্ড হাসপাতাল আমরা বাড়িয়ে চলছি, বেড বাড়িয়ে চলছি, কিন্তু তারও একটা সীমা আছে। কতটুকু আর করা যেতে পারে? ভাইয়েরা এখন সময় এসেছে রোগী কমানোর। করোনা রোগী কমানোর। সংক্রমণ কমাতে জনগণকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান জাহিদ মালেক।
সভাপতির বক্তব্যে বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০টি আইসিইউ বেডসহ ৩৫৭ শয্যা চালু করা হয়েছে। এখানে ২য় ধাপে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে এবং শেষ পর্যায়ে ৪০০ বেডসহ সর্বমোট ১ হাজার শয্যার কোভিড ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। সমগ্র ফিল্ড হাসপাতাল কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, আধুনিক লিফট, এস্কেলেটর এবং উন্নত টয়লেট ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ খাবার পানি, কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য একটি ১০ হাজার লিটার অক্সিজেন ভিআই ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে।
রেফার্ড রোগী ছাড়া এই ফিল্ট হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি করা হবে না জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ডিন অনুষদের অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক, নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
