‘কেউ পড়ে গেলে হাততালি না দিয়ে তাকে টেনে তোলো’

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২১, ২০:৩৮

অভিনেত্রী রুনা খান। ১৮ বছর ধরে অভিনয় করছেন মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে। আসাদুজ্জামান নূর নির্দেশিত নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’ মঞ্চনাটকে অভিনয় করেন তিনি। গোলাম সোহরাব দোদুল নির্দেশিত টিভি নাটক ‘সংসার’, সোহেল আরমান নির্দেশিত ‘জলরং’, আবু হায়াৎ মাহমুদ নির্দেশিত ‘বৃষ্টিদের বাড়ি’, অনিমেষ আইচ নির্দেশিত ‘বুবুনের সাত সতেরো’সহ অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন রুনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সক্রিয় এই অভিনেত্রী। রবিবার (৮ আগস্ট) ফেসবুকে স্টাটাস দিয়ে তার মায়ের দেওয়া শিক্ষার কথা বলেছেন রুনা।

মায়ের সঙ্গে তোলা দুটি ছবি পোস্ট করে রুনা লিখেছেন, আমার স্বল্পশিক্ষিত স্কুলপাশ মা ছোটবেলায় আমাকে শিখিয়েছিলো- বন্ধুরা মিলে যখন বিকেলে মাঠে দৌড়াদৌড়ি করে খেলো তখন কোন খেলার সাথী যদি মাঠে আছাড় খেয়ে পড়ে যায়, তখন তাকে নিয়ে হেসো না। তার কাছে গিয়ে তাকে হাত ধরে টেনে তোলো। পড়ে গিয়ে হোঁচট খেয়ে ব্যথা পেলো কিনা জিজ্ঞেস করো। পারলে গাঁয়ের-পায়ের ধুলা-মাটি ঝেড়ে দিও।

‘যে পড়ে গেছে সে এমনিতেই লজ্জায় থাকবে। কেউ পড়েনি সে পড়ে গেছে তাই। ব্যথা পেলে মুখটা কাঁদো-কাঁদো হয়ে যাবে। অপমানে কাউকে বলতেও পারবে না ব্যথা পেয়েছে। তুমি তার পড়ে যাওয়াতে হেসে উঠলে, হাততালি দিলে, মজা পেলে, তার মনে আঘাত করা হবে। মানুষের মনে আঘাত করা অন্যায়।’


 
‘কেউ পড়ে গেলে তো সবাই হাসেই। হাততালি দেয়। এইটাই তো মজা! আমার এমন প্রশ্নের উত্তরে মা বলেছিলেন ‘না, মা সবাই হাসলেও তুমি হেসো না। যেটা অন্যায় সেটা ১০০ জনের মধ্যে ৯৯ জন করলেও অন্যায়। আমার স্বল্প-শিক্ষিত মা কিছু কিছু বিশ্বাস এমনভাবে আমার মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন। আমি কারোর বিপদে হাসতে পারি না। আমি এই সমাজে অচলপ্রায়। আমার আশেপাশে এতো রকমের অন্যের বিপদে হেসে উঠা মুখ দেখে মনে হয়- এই সমাজে এতো শিক্ষিত-আধুনিক-সংস্কৃতিবান-প্রগতিশীল মানুষের চেয়ে আমার মার মত স্বল্প-শিক্ষিত-স্কুলপাশ মানুষ দরকার ছিলো বেশি। যে মা তার সন্তানকে শেখাবে কারোর বিপদে হেসো না, পারলে সাহায্য করো, না পারলে চুপ করে থেকো ..কিন্তু হেসো না বাবা।’

অভিনেত্রীর এমন স্ট্যাটাসের মন্তব্য বক্সে বেশিরভাগই ইতিবাচক মন্তব্য পড়েছে। এই পোস্ট কি পরীমণিকে উদ্দেশ্য করে কিনা সেটা খুঁজে বেরাচ্ছে নেটিজেনরা। 

মুক্তার হোসাইন নামে একজন লিখেছেন, ‘কথাগুলো অনেক যৌক্তিক ও অনেক বাস্তবসম্মত। কিন্তু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে যে সমস্ত অপরাধীরা এখন আইনের আওতায় এসেছে তাদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য যদি এই পোস্ট হয় তবে এই পোস্ট বর্জন করাই শ্রেয়। তবে একটা কথা না বললেই নয়- তাদের আজকের এই পরিণতির জন্য বর্তমান সমাজের মুখোশধারী বিত্তবানরা অনেকাংশে দায়ী।’

হারুন অর রশিদ লিখেছেন, ‘রুনা খান। তোমায় অনেক ভালবাসি। তবে পরীমণির জন্যে অনেক কষ্ট হলেও পক্ষে বলার কিছুই রাখেনি সে।’

সাখাওয়াৎ রাক লিখেছেন, ‘হেলেনা পরিমণি কিন্তু খেলার মাঠে পড়েনি। এরা জেনে শুনে টাকার পিছনে পড়েছে।’

তোফাজ্জাল হোসেন তপন লিখেছেন, ‘সুন্দর লিখেছেন, তবে সমসাময়িক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপনার এই লিখা। পরীমণির সাথে আপনার একটা ভালো সম্পর্ক আছে। আপনি অনেক কষ্ট পেয়েছেন নিশ্চয়ই।’

ইত্তেফাক/বিএএফ