পানি দিতে দেরি হওয়ায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:৩১

পানি দিতে দেরি হওয়ায় লক্ষ্মীপুরে এব গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। হত্যা করেছে শ্বশুর বাড়ির লোকেরা। নিহত গৃহবধূর নাম শিল্পী আক্তার। বৃহস্পতিবার ভোররাতে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জের চরভূতা এলাকা থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার পুলিশ। 

নিহত গৃহবধূ কুমিল্লার লালমাই উপজেলার আবদুল জব্বারের মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আমির হোসেন বাদী হয়ে গৃহবধূর দেবর নিরব হোসেন, শ্বশুর মোসলেম মিয়া ও শ্বাশুড়িসহ তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সকালে সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন তিনি। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে সবাই।

পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুরে শিল্পী আক্তারকে তার দেবর নিরব হোসেন পানি দিতে বলে। এ সময় গৃহবধূ বাড়ির পুকুরে কাজ করছিলেন। পরে পুকুর পাড়ে গিয়ে শিল্পী আক্তারকে দেবর নিরব হোসেন পানি দিতে দেরি হওয়ার বিষয়টি জিজ্ঞাসা করে। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাকে পিটিয়ে এবং তলপেটে লাথি মেরে হত্যা করে পুকুরপাড়ে ফেলে পালিয়ে যায় দেবর নিরব হোসেন। এ সময় গৃহবধূর শ্বশুর-শাশুড়িও পালিয়ে যায় বাড়ি থেকে। 

রাতে পুকুরপাড়ে গৃহবধূর লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভোররাতে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

নিহতের ভাই আমির হোসেন জানান, ‘৬ বছর আগে তার বোনের সঙ্গে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জের চরভূতা এলাকার মোসলেম মিয়ার ছেলে হারুনুর রশিদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা কুমিল্লায় বসবাস করতো। দেড় বছর আগে তার বোনকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসে হারুন। হারুন কুমিল্লার একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে। কিন্তু ঘটনার দিন হারুন বাড়িতে ছিলো না। তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

আরও পড়ুনঃ ‘দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে’

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘এটি একটি হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আসামিরা সবাই পলাতক রয়েছে। তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।’

ইত্তেফাক/নূহু