১৭ বছর চাকরির পর স্থায়ীকরণের দুশ্চিন্তায় ব্রেন স্ট্রোক, নির্বাচন অফিসকর্মীর মৃত্যু

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৫

দীর্ঘ ১৭ বছর আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর চাকরি স্থায়ীকরণ পরীক্ষা আশানুরূপ না হওয়ার হতাশায় ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে সাগর হালদার (৩৭) নামে এক নির্বাচন অফিসকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত সাগর হালদার পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাজার এলাকার মনিন্দ্র নাথ হালদারের ছেলে। তিনি পার্শ্ববর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আউটসোর্সিং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৮ জুলাই নিজ কার্যালয়ে কাজ করার সময় তিনি হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।

পরিবার ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই সাগর হালদার চাকরি স্থায়ীকরণের একটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা তাকে চরম হতাশায় ফেলে। পরিবারের দাবি, এই মানসিক চাপের কারণেই অফিসে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা ১০ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

স্বামীর অকাল মৃত্যু প্রসঙ্গে স্ত্রী লক্ষ্মী মালো বলেন, ‘১৭ বছর একই পদে কাজ করার পরও চাকরি স্থায়ী না হওয়ার শঙ্কা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতেন। স্থায়ীকরণ পরীক্ষার পর সেই দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। এরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।’

মৃত্যুকালে সাগর হালদার স্ত্রী এবং দুই বছর দুই মাস বয়সী যমজ দুই কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।

তার এই মৃত্যুতে ভান্ডারিয়া ও কাউখালী উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ সময় কাজ করার পরও আউটসোর্সিং কর্মীদের চাকরিকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তা নিয়ে সহকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে সাগর হালদারের স্ট্রোকের সঙ্গে চাকরি সংক্রান্ত মানসিক চাপের সরাসরি সম্পর্কের বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি; এটি মূলত তার পরিবারের দাবি।

ইত্তেফাক/এনএন