ইত্তেফাক রিপোর্ট
বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ, মূলধনের অভাব, প্রভিশন ঘাটতি, লোকসান, সুশাসনের অভাব ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত সরকারি ব্যাংকগুলো। সরকারের পক্ষ হয়ে কাজ করা এবং সেবামূলক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে থাকলেও বাণিজ্যিকভাবে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে এ খাতের ব্যাংকগুলো। বেসিক ব্যাংকে ও হলমার্ক গ্রুপের কেলেঙ্কারি, বিসমিল্লাহ গ্রুপের জালিয়াতি এসব ঘটনা সরকারি ব্যাংকগুলোর নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের দৃষ্টান্ত। এসব কারণে ক্রমশ অধঃপতনে যাচ্ছে এ খাতের ব্যাংক। এজন্য এসব ব্যাংকের পরিচালকদের অদক্ষতাও অনেক ক্ষেত্রে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তাই রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোর পরিচালকদের প্রশিক্ষণের কথা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত হচ্ছিল।
গত বছর ‘রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের অবস্থা পর্যালোচনা : চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায়’ শীর্ষক কর্মশালা আয়োজন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সেখানেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়। তারই অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় মালিকানার ৬ ব্যাংকের পরিচালকদের ব্যাংক কার্যক্রমে দক্ষ করার উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আজ রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) মিলনায়তনে পাঁচদিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষ হবে আগামী ২২ নভেম্বর বুধবার। আজ শুরু হতে যাওয়া প্রথম দফার কর্মশালায় ২২ জন পরিচালক অংশ নেবেন। দ্বিতীয় দফায় প্রশিক্ষণ শুরু হবে আগামী মাসের ২ তারিখ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের উপস্থিত থাকারও কথা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতিদিন পরিচালকদের প্রশিক্ষণ চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। প্রশিক্ষণে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের দু’জন ডেপুটি গভর্নর ও কয়েকজন টেকনিক্যাল পারসন। সোনালী, রূপালী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরাও প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুল হক বলেন, অনেক সময় বিভিন্ন পেশা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। তাদের ব্যাংক খাতের নানা আইন-কানুন এবং তাদের কার্যপরিধির বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকে না। এসব বিষয়ে ধারণা দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর পরিচালকরা ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষ হয়ে উঠবেন বলেও আশা করেন তিনি।
প্রশিক্ষণ কর্মশালা বিষয়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটা পরিচালকদের প্রশিক্ষণ না বলে ওরিয়েন্টেশন বলা যেতে পারে। কারণ, প্রশিক্ষণে অনেক কিছু থাকে। আর ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া যায় যে, ব্যাংকের মূল কাজগুলো কী? আইন-কানুনগুলো কী? বিশেষ করে পরিচালক নিয়োগের পর তাদের কর্তব্য কী? ব্যাংকিং বিষয়ে আইন ও প্রবিধানগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে পালন করা, নীতিনির্ধারণী বিষয়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত-সেসব বিষয়ে আলোকপাত করা। তারা বলেন, দেশের ব্যাংক খাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালক নিয়োগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। পরিচালক নিয়োগে গলদ রেখে এ ধরনের প্রোগ্রাম করে কোনো লাভ হবে না।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ১২ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অর্থনীতিবিদ, সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদ, আর্থিক বাজার, মুদ্রানীতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি, সাবেক ব্যাংকার, আইনজ্ঞ, ব্যবসায়ী এবং কমপক্ষে একজন নারী পেশাজীবীকে ব্যাংকের পর্ষদ সদস্য করা যাবে।
