বাংলা একাডেমি আয়োজিত আলোচনায় বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, ধৈর্য, সততা, পরোপকারিতা, নীতিপরায়ণতা এবং দূরদর্শিতা বঙ্গবন্ধুকে একটি স্বাধীন জাতির রূপরেখা প্রণয়ন, স্বাধীনতার বীজমন্ত্র রোপণ, স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদান এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও যোগ্য পরিচালনায় সহায়তা করেছে। গতকাল বাংলা একাডেমি আয়োজিত ধারাবাহিক অনুষ্ঠানে অষ্টম দিনের আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘শোককে শক্তিতে রূপান্তরের এক সাহসী অভিযাত্রা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাভাবনা ও শিক্ষাদর্শন : প্রাথমিক শিক্ষা’ শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক কবি আমিনুর রহমান সুলতান। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্বরচিত ‘তুমিই তো বয়ে যাও পিতা’ কবিতা পাঠ করেন কবি মিনার মনসুর। কবি হাসান হাফিজুর রহমান রচিত ‘একান্ত মানচিত্র বাংলার’ কবিতার আবৃত্তি পরিবেশন করেন বাচিকশিল্পী ডালিয়া আহমেদ। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা রচিত ‘জাতিমাতা’ কবিতার আবৃত্তি করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির সচিব এ এইচ এম লোকমান। সভাপতির বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।
প্রাবন্ধিক অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে সকল নাগরিক স্ব স্ব দায়িত্ব, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করলেই সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হারানোর শোক দেশ গঠনের শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে। প্রাবন্ধিক কবি আমিনুর রহমান সুলতান বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে গণমুখী শিক্ষাব্যবস্থার প্রবর্তক। দেশের সর্বস্তরের নাগরিককে শিক্ষা-সুবিধার আওতায় নিয়ে আসতে তিনি স্বাধীনতার পর বিজ্ঞানভিত্তিক ও অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি প্রবর্তন করেন। সভাপতির বক্তব্যে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব শুধু বঙ্গবন্ধুর জীবনসঙ্গী ছিলেন না, একই সঙ্গে তিনি ছিলেন তার সংগ্রামী সাথী। পঞ্চান্ন বছরের জীবনে অধিকাংশ সময় চরম বৈরিতা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে নিজে সম্মুখে অগ্রসর হয়েছেন, একই সঙ্গে জাতিকে স্বাধীনতার দিকে ধাবিত করেছেন বঙ্গবন্ধু। তার এই ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় বঙ্গমাতা ছিলেন প্রধান সাহস ও সহায়।
