রাতের খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস, অতিরিক্ত মদ্যপান, ধূমপান, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা ইত্যাদি কারণে পেটে গ্যাস হতে পারে।রোজকার জীবনধারায় সামান্য পরিবর্তন এবং খাদ্যতালিকায় কিছু খাবার সংযোজন করলেই নিত্যদিনের এই সমস্যা থেকে স্বস্তি পেতে পারেন। শুধু তাই নয়, সামান্য কিছু নিয়মবিধি মেনে চললে কয়েকদিনের মধ্যেই গ্যাস অম্বলের চিরবিদায়।
কারো গলা-বুক জ্বালা, কারো চোঁয়া ঢেকুর, কারও আবার পেট ফাঁপা, গ্যাসের সমস্যা। চটজলদি আরাম পেতে প্রায় সবারই ভরসা অ্যান্টাসিড। একটানা ওষুধ খেয়ে গেলে যে শরীরে অন্য কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, তার তোয়াক্কাই করে না কেউ কেউ। তবে কথায় কথায় গ্যাস অম্বলের সমস্যা আর মুঠো মুঠো নিজের মতে ওষুধ খেয়ে তার সমাধান মোটেই ভালো অভ্যাস নয়।
কিন্তু এর থেকে প্রতিকার কী? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
একটা নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলার অভ্যাস না থাকলে এই সমস্যা হবেই। দিনের নির্দিষ্ট সময় ঘুম থেকে উঠুন। তারপর সময়মতো ব্রেকফাস্ট করে নিন। লাঞ্চ আর ডিনারের সময়ও থাক বাধাধরা। ঘুমোতে যেতে দেরি করলেও চলবে না কিন্তু। যখনই আপনি নিজের জীবন একটা নির্দিষ্ট রুটিনে নিয়ে আসবেন, দেখবেন সময় মতো খাওয়া-দাওয়া করছেন। যার ফলে পেটে গ্যাস হচ্ছে না। কিছুদিনের মধ্যেই উপকার পাবেন হাতেনাতে।
জল ঠিকমতো না খেলে কিন্তু পেটের সমস্যা হবেই। শুধু তাই নয়, কম জল খেলে শরীর শুষ্ক হয়ে গিয়ে আরও নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এবার থেকে প্রতিদিন ৩-৪ লিটার জল অবশ্যই খান।
গ্যাস্ট্রোএসোফাগেল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা গলব্লাডারে স্টোন থাকলেও অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে। একটি পাতি লেবুর রস বের করে সেটি এক গ্লাস জলে গুলে ফেলুন। এর মধ্যে এক চিমটে নুন দিন। দুপুরের খাওয়ার পর সেটি খেলে অম্বল থেকে রেহাই পেতে পারেন।প্রায় অম্বলের সমস্যায় ভুগলে গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। তাঁকে জানান, অম্বল ছাড়া আপনার অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা আছে কিনা। প্রতিদিন খাওয়া দাওয়ার পর দুই থেকে তিনটি লবঙ্গ চিবিয়ে খেয়ে নিন, গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
অনেকেই আছেন রোজ বাইরের খাবার খান। হয় অনলাইনে খাবার অর্ডার করেন অথবা অফিস থেকে ফেরার পথে কোনও তেলেভাজা, রেস্তোরাঁ, ফুচকার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে খান। রোজ তেলমশলা যুক্ত খাবার খেলে যতই ওষুধ খান, পেট খারাপ সারবে না। প্রতিদিনের ব্রেকফাস্টে কলা খান। কলার মধ্যে থাকা পটাশিয়াম যা গ্যাস-অম্বল দূর করে।
পেট খারাপের একটা বড় কারণ হতে পারে ইমিউনিটি ক্ষমতা কম থাকা। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে ব্যাক্টেরিয়া খুব সহজেই বাসা বাঁধে শরীরে। তাই ঋতুকালীন সবজি ও ফল অবশ্যই খাবেন। এগুলো আপনার ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করবে। সঙ্গে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন যদি পেটের সমস্যা বেশি হয়। নিজে কিনে, বা মেডিসিনের দোকানের বিক্রেতার কথায় ওষুধ না খাওয়াই ভালো।
ইত্তেফাক/এফএস
