পাকিস্তানি গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অব্যাহত মিথ্যাচারের নিন্দা

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২১, ১৯:০৯

চলতি মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাকিস্তানি টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হচ্ছে, যেখানে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু কখনও পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাননি। তার ৭ই মার্চের অবিস্মরণীয় ভাষণসহ বেতার ও টেলিভিশনের কিছু ভাষণের অংশবিশেষ উদ্ধৃত করে এতে দেখানো হয়েছে পশ্চিম পাকিস্তানকে তিনি 'ভাই' বলছেন, ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে আলোচনার কথা বলছেন কিংবা 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' বলছেন।

এতে আরও বলা হয়েছে '৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর শোচনীয় আত্মসমর্পণ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংবাদে বঙ্গবন্ধু নাকি ক্ষুব্ধ হয়ে পাকিস্তানিদের বলেছিলেন, তিনি রেডিও টেলিভিশনে ভাষণ দিয়ে বাঙালিদের উদ্দেশে পাকিস্তানের অখণ্ডতার কথা বলবেন।

এর আগেও বাংলাদেশের জাতীয় শোকের মাস কিংবা বিজয়ের মাস-সহ বিভিন্ন সময় পাকিস্তানি প্রচারমাধ্যমে বলে হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে সুকৌশলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এমন সব মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয় যাতে এটি প্রতীয়মান হয়- বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের জনগণ কখনও পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চান নি, '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি সৈন্যরা কোনও গণহত্যা করেনি, পাকিস্তানের প্রতি বিদ্বেষের কারণে ভারত ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভেঙেছে এবং ভারতীয় সৈন্য ও মুক্তিবাহিনী নির্বিচারে ‘নিরীহ পাকিস্তানিদের হত্যা করেছে ইত্যাদি

নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার জন্য পাকিস্তানি প্রচারমাধ্যমের এ ধরনের মিথ্যাচার ও ধৃষ্টাচারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ। বিচারপতি, উকিল, অধ্যাপক, চিকিৎসকসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকের স্বাক্ষরিত এ স্মারকলিপিতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু কীভাবে সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তান নামক দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, কীভাবে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেছেন— এর হাজারও বয়ান পাওয়া যাবে বঙ্গবন্ধুর রচনাবলী, ভাষণ, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকদের রচনায় ও প্রামাণ্যচিত্রে বাঙালি জাতির পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাসের অমোঘ সত্য হচ্ছে বঙ্গবন্ধু না হলে কখনও বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটতো না।

আমরা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে পাকিস্তানিদের এ ধরনের ধারাবাহিক মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কীভাবে বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন এবং এর পাশাপাশি পাকিস্তান নামক মৌলবাদী সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের প্রকৃত চেহারা নতুন প্রজন্মের নিকট তুলে ধরার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরদাতা হিসেবে ছিলেন-

বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি শামসুল হুদা, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, লেখক সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, অধ্যাপক অনুপম সেন, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, শিল্পী হাশেম খান, শিল্পী রফিকুননবী, অধ্যাপিকা পান্না কায়সার, অধ্যাপিকা মাহফুজা খানম, অধ্যাপক ডা. কাজী কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন (অব.) আলমগীর সাত্তার বীরপ্রতীক, ক্যাপ্টেন (অব.) সাহাবউদ্দিন আহমেদ বীরউত্তম, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুর রশীদ (অব.), মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. আমজাদ হোসেন, ড. নূরন নবী, লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শহীদজায়া সালমা হক, সমাজকর্মী আরমা দত্ত এমপি, কলামিস্ট সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, অধ্যাপক শিল্পী আবুল বারক আলভী, সমাজকর্মী কাজী মুকুল, ড. ফরিদা মজিদ, অধ্যাপক আয়েশ উদ্দিন, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, ভয় শেখ বাহারুল আলম, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, ডা. ইকবাল কবীর, মুক্তিযোদ্ধা মকবুল ই এলাহী চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান শহীদ, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম, অধ্যাপক আবদুল গাফফার, কবি জয়নুল হোসেন, ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ, মুক্তিযোদ্ধা কাজী লুত্যর রহমান, সাবেক জাতীয় ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু, সমাজকর্মী কামরুননেসা মান্নান, অ্যাডভোকেট আজাহার উল্লাহ ভূঁইয়া, সঙ্গীতশিল্পী জান্নাত-ই ফেরদৌসী লাকী, অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব, সাংবাদিক শওকত বাঙালি, উপাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী শম্পা, লেখক আলী আকবর টাবী, সমাজকর্মী চন্দন শীল, অ্যাডভোকেট কাজী মানছুরুল হক খসরু, অ্যাডভোকেট দীপক ঘোষ, ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী, সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন, শহীদসন্তান তৌহিদ রেজা নূর, শহীদসস্থান শমী কায়সার, শহীদসস্থান আসিফ মুনীর তনুয়, শহীদসন্তান তানভীর হায়দার চৌধুরী শোভন, মানবাধিকারকর্মী তরুণ কান্তি চৌধুরী, লেখক সাংবাদিক সাব্বির খান, মানবাধিকারকর্মী আনসার আহমদ উল্লাহ, মানবাধিকারকর্মী স্বীকৃতি বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক, সাংবাদিক দিব্যেন্দু দ্বীপ, অধ্যাপক সুজিত সরকার, সমাজকর্মী হারুণ অর রশীদ, অ্যাডভোকেট মালেক শেখ, সহকারী অধ্যাপক তপন পালিত, সমাজকর্মী শিমন বাস্তে, সমাজকর্মী শেখ আলী শাহনেওয়াজ পরাণ, সমাজকর্মী সাইফ উদ্দিন রুবেল, লেখক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি প্রমুখ।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি