দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এ মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে রাজধানীর গ্রীণ রোডে অবস্থিত গ্রীণ লাইফ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি একজন রোগীর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। সেই থেকে করোনা রোগীদের চিকিত্সাসেবা কার্যক্রম শুরু করে বেসরকারি এ হাসপাতালটি। বর্তমানে এ হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য ১৭০ শয্যার ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউ বেড ১৮টি এবং কেবিন রয়েছে ৭০টি। গ্রীণ লাইফ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ শতাধিক ডাক্তার-নার্স দিনরাত ২৪ ঘণ্টা করোনা রোগীদের চিকিত্সাসেবা প্রদান করছেন।
গ্রীণ লাইফ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রথম করোনা রোগী যখন শনাক্ত হয়, তখন বেসরকারি কোনো হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল না। তবে হাসপাতালে ভর্তি রোগীকে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে তো ফেরত পাঠানো যায় না। তাই তখন থেকে মানবিক সেবায় এগিয়ে এসে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু করে এ হাসপাতাল।
এ হাসপাতালের একজন ডাক্তারের বাবাও করোনায় আক্রান্ত হন। তখন তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাসপাতালের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। ঐ কর্মকর্তা তখন বলেন, ‘তুমি একজন ডাক্তার, তুমি তোমার বাবার চিকিৎসার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে পড়েছ। যে সব করোনা রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, তারা তোমার বাবার মতো, মায়ের মতো, ভাইয়ের মতো। তুমি যদি ভেঙে পড় তাহলে তারা কোথায় চিকিত্সা পাবে?’ এ সময় চিকিৎসক ঐ কর্মকর্তাকে বলেন, ‘স্যার আমরা চিকিৎসকরা ভেঙে পড়লে রোগীরা যাবে কোথায়?’ এই ধরনের মনোবল নিয়ে চিকিৎসকরা ২৪ ঘণ্টা করোনা রোগীদের বিরামহীনভাবে চিকিৎসা দিচ্ছেন। করোনা চিকিৎসায় কর্মকর্তা, ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের মনোবল বাড়াতে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন এ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গ্রীণ লাইফ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মইনুল হাসান বলেন, শুরু থেকেই করোনা রোগীদের চিকিত্সাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান কার্যক্রম প্রতিদিনই মনিটরিং করা হচ্ছে। ডাক্তার-নার্সদের উত্সাহিত করা হচ্ছে। এ হাসপাতালের পরিচালনায় রয়েছেন এক ঝাঁক স্বনামধন্য ডাক্তার। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে করোনা রোগীদের বিশেষায়িত চিকিত্সাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এসএ
