বীরগঞ্জে প্রাকৃতিক হিমাগারে আলু সংরক্ষণে সফলতা এসেছে। কৃষিবিদ মো. তোহিদুল ইসলাম বকুল পরীক্ষামূলকভাবে হিমাগারটি স্থাপন করে সফলতা পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয় ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি।
জানা গেছে, মীম সিড এর স্বত্বাধিকারী কৃষিবিদ মো. তোহিদুল ইসলাম বকুল বীরগঞ্জ পৌর শহরের দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কের জগদল মৌজায় ১১০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুিবহীন প্রাকৃতিক হিমাগার নির্মাণ করেন। বেসরকারি সংস্থা ক্যাটালিষ্ট ও জিমার্ক এর আর্থিক সহযোগিতায় এবং কমপিটিবল টেকনোলজি ইনোস্টোলেশন (সিটিআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে হিমাগারটি নির্মাণ করা হয়েছে। হিমাগারটি চালুর পর আলুসহ কাঁচা সবজি ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করেছে। হিমাগারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
উদ্যোক্তা কৃষিবিদ মো. তোহিদুল ইসলাম বকুল জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে বীজ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। দেশে এক সময় বিদ্যুত্ নিয়ে হাহাকার চলছিল। আলুসহ বিভিন্ন সবজি ও ফল রক্ষণাবেক্ষণে হুমকিতে পড়ে যায় কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা। তখন কৃষকের উত্পাদিত পচনশীল ফসল সংরক্ষণে বিকল্প পদ্ধতির চিন্তা করি। পরে জানতে পারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদেনীপুরে একটি প্রাকৃতিক হিমাগার স্থাপন করা হয়েছে। যদিও তারা এ ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করতে পারেনি। তবে এ ক্ষেত্রে আমরা সফলতা লাভ করেছি। সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে ২০ থেকে ২শ’ টন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাকৃতিক হিমাগার নির্মাণ করা সম্ভব। হিমাগারে পরীক্ষামূলক ২৮দিন পর্যন্ত ফুলকপি ও ৭৫ দিন বাঁধাকপি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কৃষক মো. শাহাজাহান সিরাজ বুলবুল জানান, ইতিপূর্বে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য কেজি প্রতি পাঁচ/ছয় টাকা খরচ হতো। কোনো কারণে আলু পচে গেলে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেতো না। অথচ প্রাকৃতিক হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য ব্যয় হয় কেজি প্রতি মাত্র এক টাকা। বিদ্যুতের কারণে এখানে আলুসহ সকল প্রকার সবজি পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, যদিও এটি পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপন করা হয়েছে। তবে এর সফলতা আমাদের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে। হিমাগারটির আরও কিছু পরিবর্তন এবং আধুনিকায়ন করা হলে এটি শুধু দেশে নয় বিশ্বে একটি মডেল হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
