বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা ও পরে জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সামনে এমন কেউ ছিলেন না যারা তখন জাতিকে নেতৃত্ব দিতে পারেন। সেই অন্ধকারময় আশার আলোহীন দুর্দিনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী সীমান্তে গড়ে তুলেছিলেন প্রতিরোধ।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত এলাকায় শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। সারা দেশে কারফিউ আর সেনা তত্পরতার মুখে যখন টু শব্দটি করার উপায় ছিল না, তখন এক দল যোদ্ধা অস্ত্র হাতে গর্জে ওঠে। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে তারা কাঁপিয়ে তোলে সীমান্তবর্তী জনপদ।
একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাদের পরাস্ত করে যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাদের অনেকে। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে পঁচাত্তরে দেশি বাহিনীর বুলেটের টার্গেটে পরিণত হন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত চলমান ঐ প্রতিরোধ-সংগ্রামে শাহাদত বরণ করেন ১০৪ জন বীর যোদ্ধা। যদিও এই প্রতিরোধ সাধারণ মানুষের মনে সেভাবে গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করতে পারেনি। তবে স্বৈরশাসকরা এ প্রতিরোধের কারণে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপরে নির্যাতন ও জেল-জুলুম নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হয়েছিল।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ইত্তেফাককে এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছিলেন, ১৫ তারিখ ভোরে আমি বাসাতে ছিলাম। তখন জানতে পারি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার কথা। তখন আমি তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ কয়েক জন নেতার সঙ্গে কথা বলি। তাদের বলি, এ হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ প্রতিরোধের কথা জানিয়ে লিফলেট প্রকাশ করা হয়। আমি মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। ঢাকা, টাঙ্গাইলসহ ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা এবং পরে ভারতে গিয়ে ২০০ কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত এলাকা জুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। তখন শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা প্রতি মাসে চিঠি দিয়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। সেই সময় যদি আমরা এ প্রতিরোধ গড়ে না তুলতাম তাহলে জিয়াউর রহমান দেশে আওয়ামী লীগের কোনো অস্তিত্বই রাখত না। আমাদের প্রতিরোধের মুখে তারা অন্য নেতাকর্মীদের নির্বিচারে হত্যা করতে পারেনি।
