বোরো মৌসুমে চাষিদের হাহাকার

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৫

চিতলমারীতে নাব্য সংকটে অধিকাংশ নদী-খাল

চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

চিতলমারী উপজেলার প্রায় অধিকাংশ নদী-খাল এখন নাব্য সংকটের কারণে অস্তিত্ব বিলীন হতে বসেছে। ফলে কৃষি প্রধান এ অঞ্চলের নৌ যোগাযোগ ও চাষাবাদ এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩০ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলের নদী ও খাল খনন না করার ফলে অধিকাংশ ভরাট হয়ে গেছে।

এক সময়ের খরস্রোতা মধুমতি, চিত্রা ও বলেশ্বর নদীর অস্তিত্ব এখন বিলীন প্রায়। এসব নদী থেকে উঠে আসা চিতলমারী সদর বাজারের হক ক্যানেল, পাটনিবাড়ি, পেত্নিমারী, নারাণখালী, বাঁশতলী, খাগড়াবুনিয়া, শরত্খালীসহ প্রায় ৫০টি খাল ও শতাধিক শাখা খালের একই করুণ অবস্থা। এ অবস্থায় রবি মৌসুমে চাষাবাদ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। নাব্য সংকটের কারণে এলাকায় নৌ যোগাযোগ ও কৃষিকাজ  চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় উপজেলার কুরালতলা, শিবপুর, কালশিরা, বারাশিয়া, আড়ুয়াবর্ণীসহ  প্রায় আট থেকে ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার চাষিকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি চিতলমারী সদর বাজারে কৃষিপণ্যসহ মালপত্র আনা-নেওয়ার জন্য নৌকায় করে চলাচলে দারুণ বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগী লোকজন।

উপজেলার চরডাকাতিয়া গ্রামের কৃষক বরুণ মজুমদার, মুকল মজুমদারসহ অনেকে জানান, বলেশ্বর নদী থেকে একসময় লঞ্চ-স্টিমার চলত। শত শত মানুষ এই নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করত অথচ এখন হেঁটে পার হয়ে যাওয়া যায় নদী। তাদের দাবি দ্রুত নদী সংস্কার করা।

উপজেলার চরবানীয়ারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিবেশবাদী মুকুল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, বলেশ্বর নদী এখানকার মানুষের প্রাণ। এখন নদী শুকিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে লোকজনকে। এ নদীকে রক্ষা করতে না পারলে চাষি বাঁচবে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার জানান, এখানকার সেচ কাজের জন্য নদী ও খালের পানির উপর নির্ভরশীল। এ বছর প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার নদী-খালে পানি না থাকার কারণে সেচকাজ দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।  দ্রুত এলাকার নদী-খাল খনন করা না হলে কৃষি কাজ হুমকির মুখে পড়বে বলে তিনি অভিমত দেন ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু সাঈদ জানান, নাব্য সংকটের কারণে শুকনো মৌসুমে চাষাবাদে খুবই অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় কৃষি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।