দীর্ঘ ১১ বছর নিখোঁজের পরে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরেছে শরণখোলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের জেলে ফুল মিয়া মোল্লার পুত্র শহীদুল মোল্লা (৪২) । বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সাগরের ছাপড়াখালী এলাকায় ঘূর্ণিঝড় সিডরের কবলে পড়ে জেলে শহীদুল ও তার পিতা এবং সঙ্গীয় আরো তিন জেলে ট্রলারসহ নিখোঁজ হয়ে যায়। গত সোমবার বিকেলে আমড়াগাছিয়া বাজারে তাকে স্বজনরা দেখতে পেয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। ফিরে আসা জেলে শহীদুলের বড় বোন মঞ্জু বেগম জানান, ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসের প্রথমদিকে তার ভগ্নিপতি পান্না ফরাজীর ট্রলারে করে ছোটভাই শহীদুলসহ আরো তিনজন জেলে সাগরে মাছ ধরতে যায়। হঠাত্ করে ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরের জলোচ্ছ্বাসে তারা ট্রলারসহ নিখোঁজ হয়ে যায়। ওই ঝড়ে অন্য ট্রলারে থাকা তার পিতা ফুলমিয়াও নিখোঁজ হয়। ঝড়ের পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে আমরা ধরেই নিয়েছিলাম তারা আর বেঁচে নেই। দীর্ঘ ১১ বছর পরে গত ১২ নভেম্বর বিকেলে আমড়াগাছিয়া বাজারে শহীদুলকে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্বজনরা তাকে বাড়ি নিয়ে যায়।
শুক্রবার বিকেলে রায়েন্দাবাজারে শহীদুলের ভগ্নিপতি পান্না ফরাজীর বাসায় বসে শহীদুলের সাথে আলাপকালে অসংলগ্নভাবে কথা বলছিলো। শহীদুল জানায়, এতোদিন সে ভারতের পাটগ্রাম এলাকার রশিদ খানের বাড়িতে গরুর রাখালের কাজ করতো। ভারতে সে কিভাবে গেলো তা তার মনে নেই। ভগ্নিপতি পান্না ফরাজী জানান, শহীদুল নিখোঁজের সময় তার বাড়িতে স্ত্রীসহ দুই ছেলে ও দুই কন্যা রেখে যায়। ইতোমধ্যে মেয়েদের বিবাহ হলেও তার স্ত্রী মাসুমা বেগম দীর্ঘ তিন/চার বছর ধরে জীবিকার প্রয়োজনে ভারতের বেঙ্গালোরে মানুষের বাসাবাড়িতে ঝি-এর কাজ করছে। শহীদুলের স্ত্রীকে তার স্বামী ফিরে আসার খবরটি জানানো হয়েছে। সে শিগগিরই দেশে ফিরে আসছে। শহীদুলকে দেখতে তার বাড়িতে প্রতিদিন মানুষের ভিড় বাড়ছে বলে পান্না জানায়।
