বাংলাদেশ দলের নিউজিল্যান্ড সফর

ওয়ানডে জয়ের আশা করছেন মাশরাফি

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৮

স্পোর্টস রিপোর্টার

নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে নিউজিল্যান্ড সফরে কখনোই ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। দুই বছর আগে সর্বশেষ সফরেও তিন ফরম্যাটে ব্ল্যাক ক্যাপসদের কাছে সব ম্যাচ হেরে এসেছিল বাংলাদেশ। যদিও সেই সফরের পর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলেছিল টাইগাররা।

আবারও দুয়ারে নিউজিল্যান্ড সফর। ইতোমধ্যে আট ক্রিকেটার নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে গেছেন। ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা উড়াল দিবেন ৯ ফেব্রুয়ারি। নেপিয়ারে ১৩ ফেব্রুয়ারি সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। অতীতে যেমন-তেমন এবার নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডেতে জয়ের আশা করছেন মাশরাফি। বুধবার রাতে ঢাকা-রংপুর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, দল হিসেবে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলবে বাংলাদেশ। এবং জয়ের প্রত্যাশাও করছেন তিনি। 

সম্প্রতি ভারত ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ৪-১ এ ওয়ানডে সিরিজ হারিয়েছে। বাংলাদেশও জয়ের প্রত্যাশা করছে কিনা জানতে চাইলে বুধবার রাতে মাশরাফি বলেছেন, ‘বেশি আশা কাউকে দেব না। আমি অনেক ইতিবাচক অবশ্যই। বলার সময় এতোটা আত্মবিশ্বাস থাকে না আমার। তবে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলবো আশা করি। সম্ভাবনা তো অবশ্যই আছে। আমি তো প্রত্যাশা করছি। তবে কঠিন অনেক কঠিন।’

সর্বশেষ সফরে জয়ের সুযোগ তৈরি করেও তা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার এমন সুযোগ আসলে যেন কাজে লাগাতে পারেন সেই দিকেই দৃষ্টি অধিনায়কের। তিনি বলেছেন, ‘শেষ সফরে কিন্তু আমরা একটায় জয়ের কাছাকাছি ছিলাম। ২৫১ রানে ওদের অলআউট করি। একশর মতো জুটি হয়েছিল ইমরুল ও সাব্বিরের। তারপর আমাদের ব্যাটিং ধস হয়। খুব ভালো একটা সুযোগ আমরা পেয়েছিলাম। হাতছাড়া করেছি। আশা করবো এবার যদি ওই রকম সুযোগ পাই আমরা যেন মিস না করি।’

দুই বছর আগে নিউজিল্যান্ড সফরের আগে অস্ট্রেলিয়ায় কন্ডিশনিং ক্যাম্প করেছিল বাংলাদেশ। এতো প্রস্তুতির পরও কোনো ম্যাচ জিতেনি। তবে এবার থাকছে প্রস্তুতির স্বল্পতা। ওয়ানডে সিরিজে মাঠে নামার আগে দ্বিতীয়ভাগে নিউজিল্যান্ড যাওয়া ক্রিকেটাররা সময় পাবেন মাত্র দুইদিন। এর মাঝেই কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে হবে ক্রিকেটারদের। মাশরাফি বলেছেন, ‘প্রস্তুতি নিয়ে গিয়ে গতবার পারিনি। এবার প্রস্তুতি ছাড়া গিয়ে যদি পারি তাহলে পরেরবার প্রস্তুতি ছাড়াই যাবো (হাসি)। না তবে বিশ্বকাপের জন্য এটা খুব ভালো প্রস্তুতি। অন্তত সামনের ছয় বা পাঁচ মাসের দিকে তাকান এ কন্ডিশনের জন্য এটা খুব আদর্শ কন্ডিশন। বিশ্বকাপের জন্য একটা ভিত তৈরি করা যাবে। বিপিএল চলছিল কিছু করার নেই। আমাদেরকে মানিয়ে নিতে হবে। খারাপ হলে খারাপ বলবে। ভালো হলে ভালো বলবে। মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবো আমরা। অবশ্যই জেতার চেষ্টা করবো।’

উল্লেখ্য, আগামী ১৩, ১৬ ও ২০ ফেব্রুয়ারি নেপিয়ার, ক্রাইস্টচার্চ ও ডানেডিনে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ শেষে ২৮ ফেব্রুয়ারি হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে প্রথম টেস্ট ম্যাচটি মাঠে গড়াবে। ৮ মার্চ ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। আর সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৬ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে।