টানা ১৯ দিন পর মৃত্যু ২০০-এর নিচে

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২১, ০৬:০০

দেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু টানা ১৯ দিন পর ২০০র নিচে নামল। একই সঙ্গে কমেছে সংক্রমণের হারও। দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজারের নিচে নামল পাঁচ দিন পর। গত এক দিনে দেশে ৮ হাজার ৪৬৫ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। একই সময়ে করোনায় মারা গেছেন ১৯৭ জন। এর আগে গত ২৪ জুলাই ২০০র কম মৃত্যু দেখে বাংলাদেশ, একইদিন ১৯৫ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর টানা ১৯ দিন মৃত্যু ছিল ২০০র ওপরে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশে।

দেশে করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী হওয়াকে লকডাউনের সুফল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, লকডাউনে দোকানপাট, অফিস-আদালত, গণপরিবহন, জনসমাবেশ ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ ছিল। যার ফল এখন আমরা পাচ্ছি। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ও জীবন-জীবিকার সমন্বয়ের জন্য লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। তবে ব্যাপকভিত্তিক টিকাদান ও সবাই মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণ আর বাড়বে না।

দেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণ আর মৃত্যুর সংখ্যা গত মাসের চেয়ে অনেকটা কমে এসেছে। তবে দেশের মধ্য আর পূর্ব অংশে এখনো চলছে ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের দাপট। বাংলাদেশে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। এরপর বিভিন্ন সময়ে সংক্রমণ কমবেশি হলেও দুই মাসের বেশি সময় ধরে দেশে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যু কয়েক গুণ বেড়েছে।

গত জুলাই মাসে দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ১৮২ জনের। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ মহামারিতে এর আগে কোনো মাসে এত মৃত্যু দেখেনি বাংলাদেশ। এর আগে বেশি মৃত্যু হয়েছিল গত এপ্রিলে ২ হাজার ৪০৪ জনের। করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ১ জুলাই দেশে লকডাউন জারি করা হলেও কোরবানির ঈদের সময় ৯ দিন তা শিথিল করা হয়েছিল। ঈদের ছুটির পর ২৩ জুলাই থেকে আবার লকডাউন শুরু হয়। গত ১১ আগস্ট থেকে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ বলেন, ঢিলেঢালা হোক আর যাই হোক লকডাউনের সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। লকডাউনের সময় দোকানপাট ও অফিস-আদালত বন্ধ ছিল, মানুষের যাতায়াত ছিল না। এ কারণে করোনা সংক্রমণ কমছে। এখন আবার লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংক্রমণ বাড়বে না কমবে সেটা আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে বোঝা যাবে। তবে যেহেতু টিকাদান কার্যক্রম চলছে তাই সংক্রমণ নাও বাড়তে পারে। দেশের কমপক্ষে ৫ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হলে সংক্রমণ আরো কমবে। তিনি বলেন, নিজের নিরাপত্তা নিজের কাছে। সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, লকডাউনের কারণে দোকানপাট, অফিস-আদালত বন্ধ ছিল। জনসমাবেশ ছিল না। যার কারণে ভালো ফল পাওয়া গেছে। সামনে সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, মাস্ক পরতেই হবে। তাহলে জীবনও বাঁচবে, জীবিকাও বাঁচবে।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সাধারণ সম্পাদক ও মুগদা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, ঘরের দরজা খোলা রাখার পর যদি সবকিছু চুরি হয়ে যায়, তাহলে পুলিশকে যেমন দোষ দেওয়া যায় না, তেমনি মাস্ক না পরে সংক্রমিত হলে সরকারকে দোষারোপ করা যায় না। মাস্ক পরা নিশ্চিত করা গেলে করোনা সংক্রমণ রোধ করা যাবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ