স্পোর্টস রিপোর্টার
টানা দুই দিন বিশ্রামের পর গতকাল অনুশীলনে এসেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ফাইনাল বলে কথা। অবশ্য ঢাকা ডায়নামাইটস সেই পথে হাঁটেনি। আগের রাতে ম্যাচ খেলা দলটা গতকাল বিশ্রামেই ছিল। ফাইনালের আগে তাই দলটির অফিসিয়াল বক্তব্যও পাওয়া গেল না। আয়োজকদের তরফ থেকে ট্রফি নিয়ে কোনো ফটোসেশনও হলো না। এর মাঝে ফাইনালের আবহ যিকঞ্চিত পাওয়া গেল কুমিল্লার মাধ্যমেই।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ষষ্ঠ আসরের ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে কুমিল্লা-ঢাকা ফাইনাল শুরু হবে আজ সন্ধ্যা সাতটায়। ফাইনাল জিততে হলে কুমিল্লাকে ভাঙতে হবে চলতি আসরের একটি ধারা। এবার লিগ পর্বে দুই ম্যাচ হারা ঢাকা প্লে-অফে নিজেদের তৃতীয় সাক্ষাতে হারিয়েছে চিটাগং ভাইকিংসকে। একইভাবে লিগ পর্বে দুই ম্যাচ জেতা রংপুর প্লে-অফে হেরেছে কুমিল্লার কাছে। আজকের ফাইনালের আগেও ঢাকার বিরুদ্ধে দুইবার জয়ের স্মৃতি আছে কুমিল্লার। ফাইনাল ম্যাচটি হবে দুদলের তৃতীয় লড়াই।
কুমিল্লা কি পারবে টানা তৃতীয় ম্যাচ জিতে শৃঙ্খল ভাঙতে, ট্রফি ঘরে তুলতে? দলটির কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের মতে, লিগ পর্ব এখন অতীত। গতকাল বিসিবি একাডেমি মাঠে তিনি বলেছেন, ‘আগে কী হয়েছে সেটা কালকের (আজ) ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কাল (আজ) নতুন ম্যাচ, নতুনভাবে খেলতে হবে। যে ভালো খেলবে সেই ম্যাচ জিতবে।’
কুমিল্লার কোচ ও অধিনায়ক ইমরুল কায়েস জয়ের আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে
ফাইনালের মঞ্চে চাপ সামলে খেলার প্রতিই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। সালাউদ্দিনের মতে, চাপ সামাল দেয়াটাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘আপনি যতই বলেন চাপ নেবেন না, আমি ঠিক আছি এটা আসলে হয় না। যখন মাঠের ভেতর ঢুকে পরিস্থিতি কিন্তু পরিবর্তন হয়ে যায়। ঢাকার ভাল সুবিধা তাদের অনেক ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আমাদের খুব বেশি নেই। কিন্তু এখানেই বোঝা যাবে মাঠে তারা চাপ কীভাবে সামাল দেয়। কারণ ফাইনাল ম্যাচেই এটাই বড় পার্থক্য হয়ে যাবে।’
মাঠে সুস্থির মস্তিষ্কে খেলা দলেরই জয়ের সুযোগ বেশি দেখছেন কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুল। তিনি বলেছেন, ‘এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ যে স্নায়ুচাপ ধরে রাখা। এখানে যে যত বেশি মাঠে ঠান্ডা থাকবে এবং যে যত পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারবে তারাই সাফল্য পাবে। বেশি উত্তেজনা থাকলে আসলে সাফল্যের সুযোগটি কম থাকে। আমার কাছে মনে হয় ফাইনাল ম্যাচ কালকে (আজ), সবাই অনেক উত্তেজিত থাকবে। তবে আমরা যতটুকু মাঠে উপভোগ করতে পারবো সেটা ঠিকমতো করতে পারলে আমার মনে হয় সাফল্যের সুযোগটি বেশি থাকবে।’
দল হিসেবে ঢাকা ও কুমিল্লা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। ফাইনালের লড়াই তাই জমজমাটই হওয়ার কথা। লিগ পর্বে দুইবার ঢাকাকে হারানোর স্মৃতি আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে কুমিল্লাকে। প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থাকা সম্পর্কে ইমরুল বলেছেন, ‘এগিয়ে থাকার দিক থেকে এটাই বলতে পারেন যে আমরা দুটি ম্যাচে ওদের সাথে জিতেছি। আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে আমরা ভালো অবস্থানে আছি। কারণ একটি দলকে দুই বার যখন হারাবেন তখন সার্বিকভাবে প্রতিপক্ষ দল কিন্তু আমাদের নিয়ে তখন বেশি চিন্তা করবে আমাদের থেকে। এটাই আমার কাছে মনে হয় একটি ইতিবাচক দিক।’
বিপিএলে নিজেদের আর্বিভাবেই ২০১৫ সালে মাশরাফির নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কুমিল্লা। পরের আসরে লিগ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে দলটি। ২০১৭ সালে প্লে-অফে দুই ম্যাচ হেরে বিদায় নেই তারা। এখন আবারও শিরোপা জয়ের মঞ্চে কুমিল্লা।
রোড টু ফাইনাল
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স
প্রতিপক্ষ ফল
সিলেট সিক্সার্স ৪ উইকেটে জয়ী
রংপুর রাইডার্স ৯ উইকেট হার
রাজশাহী কিংস ৫ উইকেটে জয়ী
চিটাগং ভাইকিংস ৪ উইকেটে হার
সিলেট সিক্সার্স ৮ উইকেটে জয়ী
খুলনা টাইটান্স ৩ উইকেটে জয়ী
রাজশাহী কিংস ৩৮ রানে হার
ঢাকা ডায়নামাইটস ৭ রানে জয়ী
খুলনা টাইটান্স ৮০ রানে জয়ী
চিটাগং ভাইকিংস ৭ উইকেটে জয়ী (ডিএল)
ঢাকা ডায়নামাইটস ১ রানে জয়ী
রংপুর রাইডার্স ৯ উইকেটে হার
প্লে-অফ
রংপুর রাইডার্স ৮ উইকেটে জয়ী
ঢাকা ডায়নামাইটস
প্রতিপক্ষ ফল
রাজশাহী কিংস ৩৮ রানে জয়ী
খুলনা টাইটান্স ১০৫ রানে জয়ী
রংপুর রাইডার্স ২ রানে জয়ী
সিলেট সিক্সার্স ৩২ রানে জয়ী
রাজশাহী কিংস ২০ রানে হার
সিলেট সিক্সার্স ৬ উইকেটে জয়ী
চিটাগং ভাইকিংস ৩ উইকেটে হার
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৭ রানে হার
রংপুর রাইডার্স ৮ উইকেটে হার
চিটাগং ভাইকিংস ১১ রানে হার
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ১ রানে হার
খুলনা টাইটান্স ৬ উইকেটে জয়ী
প্লে-অফ
চিটাগং ভাইকিংস ৬ উইকেটে জয়ী
রংপুর রাইডার্স ৫ উইকেটে জয়
