‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি একই সঙ্গে একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের শিরোনাম, একটি বীর জাতির পরিচায়ক এবং নিঃসন্দেহে একটি আদর্শ চেতনাবোধের প্রকৃত সংজ্ঞা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সুদীর্ঘ ঘটনাবহুল জীবনে, তার আদর্শের ছাপ রেখে যাননি—এমন ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। বাঙালির মুক্তির আন্দোলনসহ ইতিহাসের প্রতিটি পাতা বলে দেয় যে বঙ্গবন্ধু তরুণ প্রজন্মকে বিনয়, সততা ও সক্রিয়তার সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচার ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন।
বঙ্গবন্ধু সারা জীবন বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। বর্তমান প্রজন্মের অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনুশীলনের বীজ রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেই ৭ মার্চের ভাষণে— সেই ভাষণে সাড়া দিয়ে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার শক্তিতে। তিনি দেখিয়ে গেছেন যে, একটি সত্ উদ্দেশ্য হাসিল করতে গেলে সম্মিলিত প্রয়াসের কোনো বিকল্প নেই। লক্ষ্য অটুট থাকলে সাংগঠনিকভাবে একটি দেশের স্বাধীনতাও অর্জন করা সম্ভব। বর্তমান তরুণ সমাজ এই শিক্ষা থেকে নিজেদের মধ্যে বিভাজনের চেয়ে সংযোজনে বিশ্বাসী হতে পারবে। ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি কুমিলা ক্যান্টনমেন্টে নতুন ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি নিঃসন্দেহে তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি উত্কৃষ্ট পাথেয়। সেখানে তিনি তরুণ ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমাদের দায়িত্বজ্ঞান থাকা প্রয়োজন, তা না হলে জীবনে মানুষ হতে পারবা না।’ তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা আদর্শবান হও, সত্ পথে থাকো।’ দায়িত্বজ্ঞান সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রত্যেকটি মানুষের জন্য অবশ্যকরণীয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যাদের হাতে দেশের ভবিষ্যত্ নির্ভর করছে, তাদেরকে তাদের অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা অপরিহার্য।
বঙ্গবন্ধু কৈশোর তথা তরুণ বয়স থেকেই অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি ও বৈষম্য জর্জরিত জাতিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে গেছেন। বাংলার মানুষের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাভোগ করেছেন। তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বই দুটিতে তারুণ্যের প্রতি তার বিশ্বাস এবং তার নিজের তরুণ বয়সের সংগ্রামের ইতিহাস বিশদভাবে আলোচনা করেছেন। সর্বোপরি, বঙ্গবন্ধুর চেতনা ও আদর্শ ১৯৫২, ১৯৭১-এ যেমন তরুণসমাজকে আন্দোলিত করেছিল, বর্তমান প্রজন্মও সেই আদর্শে মহীয়ান হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলা রচনা করতে পারে।
লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
