বঙ্গবন্ধু তারুণ্যের মুক্তি ও সমাজচিন্তায় বঙ্গবন্ধু

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২১, ২১:১২

শাহাদাত সুমন

বাঙালি জাতির হাজার বছরের গৌরবান্বিত ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং হার না মানা প্রবল স্পৃহার স্বরূপ পুনর্বার চিত্রায়িত হয়েছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে। বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে তরুণদের সুপ্ত তেজস্বী মনোভাবের বিকাশ ঘটেছিল সেসময়। বঙ্গবন্ধু আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, জাতিগত অহংকার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মনোভাব, সততা ও ন্যায়ের শিক্ষা এবং মাথা উঁচু করে চলার উজ্জীবনী শক্তি সঞ্চয়ের অবতারণা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু দুর্নীতিমুক্ত, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ একটি দেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখতেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সে স্বপ্নের পূর্ণতা প্রাপ্তি সম্ভব হয়েছিল তার একনিষ্ঠ দেশপ্রেম ও অদম্য মানসিক দৃঢ়তার কারণেই। মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর সুনির্দিষ্ট যেসব আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছিল তার মধ্যে ভিনদেশি শাসকদের প্রভাব মুক্ত স্বাধীন দেশ গড়া ও সর্বস্তরে মানবাধিকার   বাস্তবায়ন ছিল অন্যতম। শত বাধা-বিপত্তির মুখেও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের লড়াইয়ে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দান তখন স্বাধীনভাবে বাঁচার জন্যে হাঁসফাঁস করা দেশের মানুষকে আরো একবার বুঝিয়ে দিয়েছিল ক্রান্তিলগ্নেও তারা ভুল নেতৃত্বকে আঁকড়ে ধরেনি। পাশাপাশি যুদ্ধ-পরবর্তী একটি বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদান বাঙালি জাতির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়তে তাই বঙ্গবন্ধুর বিশাল মহানুভবতা ও দেশপ্রেমের নিদর্শন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। নবীন প্রজন্মের এখনই সময় বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের অনুস্মরণীয় দেশপ্রেমকে ধারণ করে সমাজে প্রচলিত দীর্ঘদিনের ঘুণে ধরা চিন্তার জগতের সংস্কার, ভাবনার ভুবনে পরিবর্তনের হাওয়া লাগিয়ে নিজস্ব মেধার উত্কর্ষ সাধন করা এবং দেশের জন্যে অন্তত কিছু করা। নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রতিটি নবীনকে সমাজ সংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

শেখ মুজিব চেয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠন করে মানুষকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা থেকে মুক্তি দেওয়াসহ এ জাতিটাকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি দিতে। বঙ্গবন্ধুর সময়কালে যেমন অসাধু কিছু ব্যক্তি স্বাধীনতার মূলমন্ত্র থেকে সরে গিয়েছিল, এখনকার সমাজে ঘাপটি মেরে থাকা সেসব শক্তিকে ধ্বংস করতে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রতিটি নবীনকে হয়ে উঠতে হবে একেকটি বঙ্গবন্ধু।

 

লেখক :শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়