যে ছায়া বিশ্বময়

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২১, ২১:১৬

সিদ্ধার্থ টিপু

 

ধুন্ধুমার আকাশের থাকে কতো কী আয়োজন

প্রাণ অবশ্যম্ভাবী রোদ, ঝঞ্ঝাকবলিত রাত,

রাতের আকাশে দিগ্বিদিক নক্ষত্ররাশি!

অতি খরা কিংবা যাবতীয় ঝঞ্ঝাকে অগ্রাহ্য করে

আপনি তখন হিমালয়, আপনি তখন সুবিশাল মহীরুহের মতো 

কী বিপুল দাঢ্যতায় দাঁড়িয়ে গেলেন

সাত কোটি সন্তানের ছায়া হয়ে!

 

মাটির পরতে-পরতে বিস্তীর্ণ শস্যের জমিন ছাপিয়ে সে ছায়া এতোটাই বিশ্বময় হয়ে উঠলো

যেন-বা সারা দুনিয়ার দুর্দশা আর শোষিত মানুষের অভিন্ন কণ্ঠস্বর।

গাঙ্গেয় এই উপত্যকার জল-হাওয়ায় উচ্চকিত হলো

সেদিনের সে তর্জনীর অভয়বাণী এবারের সংগ্রাম

আমরা আমাদের ঠিকানা বুঝে নিতে উদ্যত হলাম। আমাদের মাঠ ভরে উঠলো অগ্নিগর্ভ ফসলে, পাখিরা গেয়ে উঠলো সমস্বরে জয়বাংলার ঐকতান। সারা বাংলা তখন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর। নয় মাসের দুঃসহ সেই অনিবার্য রক্তের সাগর পেরিয়ে আমাদের বুকে লেখা হলো প্রিয় মাতৃভূমির নাম।

 

এ মাটির গহিনে আমাদের স্বপ্নের হয় চাষ

এ মাটির করতলে আমাদের প্রোথিত নিঃশ্বাস

বুকের মধ্যে এ মাটির সুর বইছে বারো মাস আমার সোনার বাংলা

ওদিকে আপনার ফুল-ফল সুশীতল ছায়াতলে হূষ্ট হতে থাকলো এক দল উচ্ছিষ্ট!

তখনও পূর্বাকাশ ফর্সা হয়ে ওঠেনি,

চিরদিনের মাথার ওপরের সবটা আকাশ হয়েও নিথর দেহে পড়ে রইলেন রক্তাক্ত সিঁড়িতে!

নর্দমার কতিপয় কীট; তারা হয়তো ভেবেছিল আপনি নিঃশেষ হয়ে গিয়েছেন।

 

কিন্তু ইতিহাস আপনাকে দিয়েই তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে উদ্যোগী হলো।

ফলে অবিস্মরণীয়ভাবে নদীমাতৃক এই ভূগোলের তাবত্ সুরভিত গোলাপের পাপড়িতে

ফুটে উঠলো আপনার নাম।

টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে আপনি মানচিত্র সমান।