আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর পরিণাম

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:০৬

   মুফতি হেলাল উদ্দীন হাবিবী

 

আত্মার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে আত্মীয় বলা হয়। সাধারণত রক্ত, বংশ কিংবা বৈবাহিক সূত্র থেকে আত্মীয়তার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। আবার অনেক সময় বন্ধুত্ব থেকেও আত্মীয়ের ন্যায় সম্পর্ক সৃষ্টি হয়; যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আত্মীয়তার সম্পর্ক থেকেও গভীর হয়ে থাকে। শরয়ী বিধান অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজনের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা হক বা অধিকার রয়েছে। তাদের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখা ওয়াজিব। শরয়ী কারণ ছাড়া আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা সম্পূর্ণ হারাম। যদি কোনো আত্মীয় অসহায়, গরিব বা মূর্খও হয়, তবু তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে এবং তাকে ভালবাসতে হবে হূদয়ের গভীর থেকে। যে ব্যক্তি শুধু সম্পদশালী ও প্রতাবশালী স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে; কিন্তু অসহায় গরিব স্বজনদের এড়িয়ে চলে, তাদের খোঁজ-খবর নেয় না, তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে না, সে মুমিন হতে পারে না।

মহান আল্লাহ্ তা’আলা আত্মীয়-স্বজনের হকের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের প্রভুকে ভয় কর। যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক আত্মা থেকে, আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চাও। আর ভয় কর রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে, তাদের হক আদায় করে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের পর্যবেক্ষক (সকল খবর জানেন)’ (সূরা নিসা, আয়াত-০১)  এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তা’আলা কোরআনের অন্যত্র ইরশাদ করেন, “তোমরা আত্মীয়-স্বজনের হক আদায় করে দাও এবং মিসকীন ও মুসাফিরের হকও আদায় করো। আর কোনোভাবেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয়ই অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার প্রতিপালকের খুবই অকৃতজ্ঞ”। (সূরা বণী ইসরাইল, আয়াত-২৬-২৭)।

হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলা এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন মেহমানদের সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলা এবং পরকালের উপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে। যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলা এবং পরকালের উপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা চুপ থাকে। (বুখারী) হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা) হতে বর্ণিত, নবী করীম (স) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি প্রশস্ত রিযিক ও দীর্ঘ হায়াত কামনা করে, সে যেন নিজ আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে। (বুখারী) হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেন, নিঃসন্দেহে আত্মীয়তা রহমানের রহমতের একটি শাখা। অতএব যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আল্লাহ তা’আলা তার উপর জান্নাত হারাম করে দিবেন। (মুসনাদে আহমদ)। আমরা অনেকেই সাধারণ বিষয় নিয়ে মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবের সাথে দীর্ঘদিন পর্যন্ত কথা-বার্তা বন্ধ রাখি। এমনকি অনেকে এভাবে রাগ করে সারা জীবন কথা-বার্তা, দেখা-সাক্ষাত্ পর্যন্ত বন্ধ রাখে। এ ধরনের লোকদের ব্যাপারে প্রিয়নবী (স) কঠোর বার্তা প্রদান করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (স) ইরশাদ করেন, কোনো মুসলমানের অপর মুসলমান ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখা জায়েয নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখলো এবং এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলো, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (আবু দাউদ)

lলেখক : মুফাসিসরে কুরআন, শিক্ষক ও খতিব, মাসজিদুল কুরআন জামে মসজিদ,

কাজলা (ভাঙ্গাপ্রেস), যাত্রাবাড়ী, ঢাকা