দুর্ঘটনারোধে চাই ত্রুটিপূর্ণ যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:১২

দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধে সড়ক ও মহাসড়কে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি বলে মত দিয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি। কমিটি বলেছে, এ সমস্যার ব্যাপকতা ও মাত্রা বোঝার জন্য গণপরিবহনের উপর বিজ্ঞানভিত্তিক জরিপ পরিচালনা খুবই প্রয়োজন। যাতে করে প্রকৃত চিত্র উঠে আসে। এছাড়া কমিটি সড়ক ও মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে মোট ৮৩টি যানবাহনের উপর দৈবচয়নের ভিত্তিতে জরিপ পরিচালনা করে। ওই জরিপ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২৪ ভাগ গাড়ির ফিটনেস খারাপ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া স্পিড গভর্নর সিল ৪১ ভাগ, সিএনজি সিলিন্ডারের মেয়াদ ২৭ ভাগ, বাহ্যিক অবস্থা ২৯ ভাগ, ইনডিকেটর ও সিগন্যাল লাইট ৩০ ভাগ, ব্রেক লাইট ২৯ ভাগ, স্টিকার ৪৫ ভাগ, বাম্পার ৯০ ভাগ ও এঙ্গেল ৯৫ ভাগ যানবাহনের খারাপ পর্যায়ে আছে। অন্যদিকে চেসিস ৮০ ভাগ, ফিটনেস  সার্টিফিকেট ৭৬ ভাগ, চাকার রাবারিং অবস্থা ৯৬ ভাগ, দরজা ৮৯ ভাগ, সিট ৯৪ ভাগ, জানালা ৯০ ভাগ, হেড লাইট ৯৫ ভাগ, ব্রেক ব্যবস্থা শত ভাগ, স্টিয়ারিং ৯৬ ভাগ, স্পিডোমিটার ৮০ ভাগ ও  টেম্পোরেচারগেজ ৮৩ ভাগ গাড়ির ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ভালো আছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে গতকাল বৃহস্পতিবার বিআরটিএর পক্ষে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. তানভীর আহমেদ। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার সময় সবকয়টি আইটেম পর্যবেক্ষণ করতে হয়। কিন্তু সড়কের উপর যানবাহন পরীক্ষা করা হয়েছে বলে ৫৯টি বিষয় দেখা সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিপ পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন সংস্থা, মালিক-শ্রমিক সংগঠন, পুলিশের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে জরিপ করার বিষয়টি কোনো না কোনোভাবে প্রকাশ হওয়ায় অনেক যানবাহন (সম্ভবত খারাপ যানবাহন) ওই স্থান ও সময় এড়িয়ে চলেছে। এছাড়া যানবাহনের অনেক বিষয় রয়েছে, যা পর্যবেক্ষণের জন্য পরীক্ষণ যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। কিন্তু জরিপকারীদের  কাছে এ ধরনের যন্ত্রপাতি না থাকায় চোখের দেখায় অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। একটি গাড়ির ব্রেক সঠিক আছে কিনা তা ওই গাড়িটিকে কিছুটা চালিয়ে তারপর ব্রেক পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু ব্যস্ত সড়কে এ কাজটি করার সুযোগ না থাকায় তা করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদনের মতামত অংশে কমিটি বলেছে, জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সকল দিক বিবেচনা করে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যানবাহনের ফিটনেসের অবস্থা ভালো। তাছাড়া যানবাহনের বিভিন্ন অংশের মান সংখ্যার দিক থেকে সর্বনিম্ন ৭০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৬ ভাগ পর্যন্ত সঠিক রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা শতভাগ পর্যন্ত ভাল পাওয়া গেছে। তবে বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ ফলাফল বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিটনেস সার্টিফিকেট সম্বলিত গাড়ি যেমন ত্রুটিপূর্ণ হয়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে তেমনি ত্রুটিপূর্ণ গাড়িও এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৩৮ লাখ। যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (এস্টেট) রওশন আরা বেগমের নেতৃত্বাধীন ১৫ সদস্যের এই কমিটি গণপরিবহনের ফিটনেস যাচাইয়ের লক্ষ্যে গাজীপুরের চন্দ্রায় ১২টি, নারায়ণগঞ্জের কাচপুরে ১৭টি, মুন্সীগঞ্জের নিমতলায় ২৩টি এবং ঢাকার বনানীতে ৩১টি বিভিন্ন ধরনের বিশেষ করে বাস, ট্রাক ও সিএনজির উপর জরিপ পরিচালনা করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।